শান্তি আলোচনায় গতি আনতে সৌদি-তুরস্কে যাচ্ছেন শাহবাজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে এ সপ্তাহেই সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে পাকিস্তানের এই উদ্যোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনার নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শান্তি আলোচনা টেকসই করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আসিফ আলি জারদারি।
সোমবার অনানুষ্ঠানিকভাবে গোপন আলোচনার খবর সামনে আসে। এরপর মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাতিসংঘের বক্তব্যে পাকিস্তানের এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এর আগে, রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার সরাসরি বৈঠক হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
মঙ্গলবার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে ইউরোপে আলোচনার কথা বলা হলেও পরে তিনি জানান, বৈঠকটি ইসলামাবাদে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ সময় তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক কূটনীতিকের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটন নতুন করে আলোচনায় বসতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান, সময় ও প্রতিনিধিদলের গঠন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভা বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুদ্ধবিরতি সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই বেশি’। তিনি সতর্ক করে বলেন, এত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সংকট এক দফা আলোচনায় সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই আলোচনার ধারাবাহিকতা ও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা জরুরি।
চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ জোরদার করেছে। এর পাল্টা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
আলজাজিরার ইসলামাবাদ প্রতিনিধি কামাল হায়দার বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই এখন যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে বলে স্বীকার করছে, যা আলোচনার জন্য ইতিবাচক সংকেত।
এদিকে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ফোনালাপে তেহরান-ওয়াশিংটন সংলাপ নিয়েও আলোচনা করেছেন।