logo

ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ফের হামলা, জাতিসংঘের সতর্কতা

ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ফের হামলা, জাতিসংঘের সতর্কতা

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় নতুন করে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ)। গত ১০ দিনের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনার কাছে হামলার ঘটনা ঘটল।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, তেহরান তাদের নিশ্চিত করেছে, হামলায় চলমান রিঅ্যাক্টরের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি। কেন্দ্রটি বর্তমানে সচল রয়েছে।

তবে এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তিনি বলেছেন, ‘কোনো রিঅ্যাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শন করতে হবে।’

একই দিন তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ইরানের আরাক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে আগে থেকে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার করণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইরান।

হামলা চালানোর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ফারসি ভাষায় এক সতর্কবার্তা দিয়ে আরাক শহরের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল এবং পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি খির আবাদ এলাকায় থাকা বেসামরিক লোকজনকে সরে যেতে বলে। তারা জানায়, ওই এলাকায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তুর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে আরাক হেভি ওয়াটার প্ল্যান্টটি অন্যতম। তবে ওই হামলার পর থেকে পুনরায় চুল্লিটির নির্মাণকাজ চালিয়ে আসছিল তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, আরাক পারমাণবিক স্থাপনার নির্মাণ পরিকল্পনা শুরু থেকেই ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। কারণ, এই ধরনের ভারি পানি রিঅ্যাক্টর থেকে প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করা সম্ভব, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে।

এ কারণে ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী ইরান এই স্থাপনাটির নকশা পরিবর্তনে রাজি হয়, যাতে প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের পথ বন্ধ করা যায়।