খামেনি নিহত হওয়ার ২৩ মিনিট আগের ছবি প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ২৮তম দিনে এসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি কথিত ছবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ছবিটি প্রকাশের পর তেহরান দাবি করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাত্র ২৩ মিনিট আগে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল এই দৃশ্যটি।
ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে?
লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি তেহরান থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। শেষ ছবি বলে দাবি করা এই দৃশ্যে ইরানি নেতাকে তার কার্যালয়ে একটি চেয়ারে বসে কিছু পড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে ছবিটির সত্যতা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর দাবি, ছবিটি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরি হতে পারে। তাদের প্রশ্ন, ওই প্রাণঘাতী হামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ কীভাবে অক্ষত থাকতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই অপারেশনের নাম দিয়েছে ‘এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল দিয়েছিল ‘লায়ন’স রোয়ার’। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তজনা ও আলোচনার মাঝেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
হামলা ও নেতাদের হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ওই অঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে (বাহরাইন, কুয়েত, ইউএই, ইরাক, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান এবং আজারবাইজান) হামলা চালায়। এমনকি ইরান যে কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
Tehran publishes the last picture taken of Islamic Revolution leader Ayatollah Sayyed Ali Khamenei at his office in the Iranian capital before his martyrdom. pic.twitter.com/sPm3fpZCKb
— Al Mayadeen English (@MayadeenEnglish) March 27, 2026
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার জয়ের দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য প্রায় অর্জিত। ইতোমধ্যে ইসরায়েল লেবাননে তাদের অভিযান সম্প্রসারিত করেছে এবং লেবানিজ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনীতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, আলোচনা চলছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জানিয়েছেন, তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। তেহরানের অনুরোধে এই বিলম্ব করা হয়েছে এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, আলোচনা চলছে এবং ফেক নিউজ মিডিয়া ও অন্যদের ভুল তথ্য সত্ত্বেও তা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, হয় হরমুজ প্রণালি তেল ট্যাংকারের জন্য খুলে দিতে হবে, নয়তো বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের সম্মুখীন হতে হবে। এরপর থেকে সময়সীমা দুবার বাড়ানো হলো।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ক্যাবিনেট মিটিংয়ে জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার বিষয়ে আগ্রহী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র: উইঅন