logo
Advertisement

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়াল

সিএনএন
সিএনএন
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়াল
সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে হামলা ও জাহাজ চলাচলে ক্রমবর্ধমান বিঘ্নের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

গ্রিনিচ মান সময় (GMT) রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ০৫ ডলার বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ৬৮ ডলারে পৌঁছায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৫ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৪৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উপপ্রধান উদীয়মান বাজার অর্থনীতিবিদ জেসন টুভে মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলা এবং সৌদি আরবে হুথিদের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ইরান ও তাদের মিত্ররা যুদ্ধে আবার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আগামী বছরও তেলের দাম চড়া থাকার আশঙ্কা

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো তারা মনে করছে না যে আগামী বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরবে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ যুদ্ধের নিশ্চিত অবসান কিংবা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসার পূর্বাভাসও আর দিচ্ছে না।

এসঅ্যান্ডপি এখন ধারণা করছে, আগামী বছরজুড়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সস্তা জ্বালানির প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বুধবার রাতে ট্রাম্প দাবি করেন, নভেম্বরের ৩ তারিখের নির্বাচনের পর তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে এবং যুদ্ধও শিগগির শেষ হবে।

তবে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির বৈশ্বিক ক্রুড অয়েল গবেষণা বিভাগের প্রধান জিম বারখার্ড বলেন, তেলবাজার এখন আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথে নেই। বরং অমীমাংসিত সংঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকিকে কেন্দ্র করে বাজার একটি ‘নতুন স্বাভাবিক’ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, পরিবহন ব্যয় এবং সুদের হারের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।