ইরান হুমকি নয়, ইসরায়েলের মদদে যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: জো কেন্ট

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পদত্যাগপত্রটি শেয়ার করে সামাজিকে যোগযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টে তিনি বলেছেন, ইরান তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না। বরং ইসরায়েলি লবি গ্রুপের মদদে এ যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমধ্যম আলজাজিরা।
এক্সে দেওয়া পোস্টে কেন্ট বলেন, আমি আমার বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চলছে, তা নৈতিকভাবে সমর্থন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
জো কেন্ট দাবি করেন, এই যুদ্ধের পেছনে কোনো নিরাপত্তার কারণ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো তাৎক্ষণিক বা আসন্ন হুমকি তৈরি করেনি। ইসরায়েল এবং দেশটির প্রভাবশালী মার্কিন লবি গ্রুপগুলোর মদদে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে, এটি এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ৯০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। টানা ১৮ দিন ধরে চলমান এ যুদ্ধে ইরানের প্রায় দেড়হাজার নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রতিবাদে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা এটাই প্রথম।
এদিকে ইরান ও ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর সক্ষমতা ধ্বংস করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে রাজি করাতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোয় ইরান ও দেশটির সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তারবার্তার ভিত্তিতে এ খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
এই তারবার্তাকে ‘স্পর্শকাতর তবে অতি গোপনীয় নয়’ উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন কূটনীতিকদের এই বার্তাটি ২০ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ‘উপযুক্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে।
তারবার্তায় মার্কিন মূল্যায় তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইরান সরকার একক পদক্ষেপের চেয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। একতরফা চাপের চেয়ে যৌথ চাপ এই শাসনকে আচরণ পরিবর্তনে বাধ্য করার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।