logo

সৌদির পর এবার কাতারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী 

সৌদির পর এবার কাতারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী 

তিন দেশে সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরব সফর শেষে কাতারে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে শাহবাজ শরীফকে অভ্যর্থনা জানায় কাতার সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মূলত এই সফরের লক্ষ্য।
 
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ১৫-১৮ এপ্রিলের এই সফরের দ্বিতীয় ধাপে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দোহা গেছেন। এর আগের দিন তিনি সৌদি আরব সফর করেছেন। চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করছে।

সফরকালে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে শাহবাজ শরীফের। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তি রক্ষায় পাকিস্তানের চলমান প্রচেষ্টার বিষয়ে মতবিনিময় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

শাহবাজ শরীফের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কাতার সফর শেষে তুরস্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও কাতার সফর করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। সফরে শাহবাজ শরীফ চলমান সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।

— Prime Minister's Office (@PakPMO) April 16, 2026

এদিকে তুরস্ক সফর ‘আন্টালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামে’ অংশ নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি লিডারস প্যানেলে অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন এবং পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরবেন। পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গেও তার একান্ত বৈঠকের কথা রয়েছে।

এই সফর গুরুত্বপূর্ণ কেন?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সম্প্রতি ঐতিহাসিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামাবাদে। এই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান। ১৯৭৯ সালের পর প্রায় ৪৭ বছর পর এবারই প্রথম ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনায় বসেছে। 

যদিও প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার আলোচনা থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি আসেনি। বরং আলোচনার পর আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের হুমকিতে যুদ্ধবিরতি এখন হুমকির মুখে। তবে এর মধ্যে পাকিস্তান দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই আলোচনায় ইরান যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য পাকিস্তান তাদের কূটনৈতিক অবস্থান জোরদার করছে, এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে শাহবাজ শরীফ তৃদেশীয় সফরের উদ্যোগ নিয়েছেন।