ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১০, বহু নিখোঁজ

ভয়াবহ ভূমিধসে ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ প্রায় ৮০ জনের অনুসন্ধানে আবারও কাজ শুরু করেছে উদ্ধারকর্মীরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এর আগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাময়িক অভিযান স্থগিত করা হয়। ঘটনাটি শনিবার (২৪ জানুয়ারি) পশ্চিম জাভা প্রদেশের একটি আবাসিক এলাকার। খবর আলজাজিরার।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, পশ্চিম বান্দুংয়ের গ্রামগুলোতে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে রোববার আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। সাময়িক বন্ধ থাকার পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন কর্মীরা।
এদিন পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরুর আগে মিশন সমন্বয়কারী অ্যাডে ডিয়ান পারমানা বিবৃতিতে জানান, বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ দ্রুত বন্ধ করা হয়েছে। ভূমিধসের ফলে আবাসিক এলাকাটি মাটির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েক ডজন মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস টিভি জানিয়েছে, শনিবার উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম ভূখণ্ড ও বৃষ্টিপাতের কারণে ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করতে পারেননি। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তাসহ পশ্চিম জাভাতে বন্যার একাধিক খবর পাওয়া গেছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু ভূমিতে ও অপ্রভাবিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
৩৬ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা দেদি কুর্নিয়াওয়ান জানান, জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, প্রদেশের পাহাড়ি এলাকা পাসির লাঙ্গু গ্রামে এটি তার জীবনে প্রথম ভূমিধস। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় মাঝে মাঝে নদী থেকে ছোটখাটো বন্যা হয়, কিন্তু এবার ভূমিধস বন থেকে নেমে এসেছে।’
ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় উদ্ধারকারীরা এখন হাতে খনন করে আহত ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে। জাতীয় উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তারা ড্রোন এবং কুকুর ইউনিটও মোতায়েন করছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।
পশ্চিম বান্দুংয়ের মেয়র শনিবার সতর্ক করে জানিয়েছেন, অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষাকালে এই দ্বীপপুঞ্জে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা খুবই সাধারণ।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের শেষের দিকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ও তীব্র বৃষ্টিপাতের কারণে সুমাত্রা দ্বীপে প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হয়, প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। পরিবেশবিদ, বিশেষজ্ঞ ও সরকার মনে করছেন, বন্যা ও ভূমিধসে বনভূমির ক্ষতি একটি বড় ভূমিকা রাখে, কারণ বনভূমি না থাকায় কাদা ও বালি সহজে নেমে আসে।
সুমাত্রার ওই বন্যার পর সরকার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলা দায়ের করেছে। আরও সাম্প্রতিক এই মাসে, সিয়াউ দ্বীপে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়।