কেনিয়ায় স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একটি বোর্ডিং স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে। এতে দগ্ধ হয়েছে আরও ৭৯ শিক্ষার্থী। রাজধানী নাইরোবি থেকে ১২০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গিলগিল শহরে অবস্থিত উতুমিশি গার্লস স্কুলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি একটি মেয়েদের আবাসিক স্কুল।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজির। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সিটিজেন টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে ভাঙা জানালার কাচ ও ধোঁয়ায় দাগ ধরা দেওয়াল দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দগ্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার তৎপরতা চালান। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৪ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে গিলগির শহরটিতে তারা উদ্ধার ও জরুরি প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমের দিচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কমান্ডার মাসুদ মউইনি স্কুলে সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আগুন লাগার সময় ভবন ছেড়ে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজে ৫০ জন কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটির চারপাশের এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জুলিয়াস ওগাম্বা জানান, নাকুরু কাউন্টির গিলগিলে অবস্থিত উতুমিশি গার্লস স্কুলে রাতভর অগ্নিকাণ্ডে ৭৯ জন আহত হয়েছেন। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কেনিয়ায় স্কুলে আগুন লাগানোর একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০১৮ সালেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৬০টিরও বেশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
গবেষকরা দেখেছেন যে, কঠোর শৃঙ্খলা ও খারাপ অবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরাই এই আগুন লাগিয়েছে।
২০২৪ সালে নিকটবর্তী নায়েরি কাউন্টির একটি প্রাথমিক আবাসিক বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। সেই অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ণয় করা যায়নি।
২০১৭ সালে নাইরোবির একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন শিক্ষার্থী মারা যায়। এক শিক্ষার্থীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
