বিমানবন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহদীকে আটকে দিল ভারতীয় পুলিশ

হবিগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ঢাকার ফ্লাইট ধরতে দিল্লি বিমানবন্দরে গেলে সেখানে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়। দ্য ডিসেন্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ভারতস্থ বাংলাদেশের কনসুলেটে একটি সূত্রের বরাতে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ মাহদী হাসানকে বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে।
গতকাল সামাজিক মাধ্যমে হুমকির প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে মাহদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর আজ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার জন্য মাহদী দিল্লি বিমানবন্দরে গেলে সেখানে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। তৎক্ষণাৎ তিনি হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।
এর আগে মাহদী হাসান দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছিলেন, তিনি ফিনল্যান্ডে যাওয়ার জন্য ভিসা সংক্রান্ত কাজে দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। মূলত গতকালই মাহদী জানান দিল্লিতে ভিএফএস সেন্টারে গিয়েছিলেন ভিসা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে, সেখানে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার ভিডিও ধারণ করে।
তারপর থেকে তার মোবাইলে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ ও কল আসতে থাকে। এসব কল ও মেসেজ থেকে তিনি বুঝতে পারেন কেউ তার অজান্তে তার বর্তমান অবস্থান, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে।
তবে তিনি জানেন না কে বা কারা ভিডিওটি ধারণ করেছে।
মাহদী দ্য ডিসেন্টকে তখন জানিয়েছিলেন, তিনি হোটেলে ফেরার পর এসব দেখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সম্প্রতি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসি আবুল কালামের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনায় আসেন মাহদী হাসান। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি আবুল কালামকে তিনি বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে তারা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছেন এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন।
এ বক্তব্যের পর আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি এবং পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সেই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ওইদিন সন্ধ্যা থেকে তার মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। ঢাকাতেও কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাকে মুক্তি দিতে আলটিমেটামও দিয়েছিল সংগঠনটি থেকে।
২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, শুধু জামিন নয়, মাহদীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সে সঙ্গে জুলাই অংশগ্রহণকারী সবাইকে পহেলা জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।