logo

হরমুজে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত, ইরানে ফের হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত, ইরানে ফের হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের
iran

হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগে ইরানের ওপর ফের হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে হামলা শুরু হয়। হেলিকপ্টার ভূপাতিতের ঘটনার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, অযৌক্তিক ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি একটি আনুপাতিক জবাব।

এ সময় পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

সেন্টকম জানায়, ভূপাতিত হওয়া মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই আরোহীকে একটি মার্কিন ড্রোন উদ্ধার করেছে। এই প্রথমবারের মতো মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রকাশ্যে স্বীকার করল যে এ ধরনের অভিযানে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, হেলিকপ্টারে দুইজন পাইলট ছিলেন। দুজনই নিরাপদ ও আহত হননি। তবুও এই হামলার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান একটি ড্রোন ব্যবহার করে হামলাটি চালিয়েছে। তবে ড্রোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন।

ইরানের গণমাধ্যমও ঘটনাটির অস্তিত্ব স্বীকার করেছে। তবে দেশটির আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ভূপাতিত বিমানটির দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সেন্টকম জানায়, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ভেতরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন হামলাগুলো মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস, কেশম ও সিরিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এটি তাদের কাজের জবাব। তারা গত রাতে আমাদের হেলিকপ্টারের সঙ্গে যা করেছে, তার প্রতিক্রিয়া এটি। আমি মনে করি জবাবটি শক্তিশালী ও কঠোর হওয়া উচিত ছিল, আর সেটাই করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানান, ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আমরা দুঃখিত যে পরিস্থিতি এখানে এসে পৌঁছেছে। তবে আমাদের এই বিষয়টির সমাধান করতে হবে।

হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশটি কোনো হামলা বা হুমকির জবাব দিতে পিছিয়ে যাবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যান।

মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা সামনে আসে। তেহরান আগেই সতর্ক করেছিল, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নতুন করে প্রতিশোধমূলক আঘাতের ঢেউ সৃষ্টি করবে।

আরাঘচি বলেন, ইরানের সীমান্তের কাছে অবস্থানরত বিদেশি বাহিনী মানবিক ভুল, দুর্ঘটনা কিংবা সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাদের (বিদেশি বাহিনীর) চলে যাওয়া।

ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও প্রতিশোধের ইঙ্গিত দেন।

তিনি লেখেন, আমরা কূটনীতির ভাষাকে প্রাধান্য দিই, কিন্তু অন্য ভাষাগুলো আমরা আরও ভালোভাবে জানি। আপনারা যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন, তাহলে আমরা আমাদের সবচেয়ে দক্ষ ভাষায় কথা বলব। যে ঘোড়ায় চড়েছেন, তার দায়ও আপনাদেরই নিতে হবে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইসরায়েল ও ইরান উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করেছিল।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে উভয় দেশকে অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ইসরায়েল ও ইরান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে, তবে অজ্ঞতা বা বোকামি শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা এমন একটি চুক্তির একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি, যা অত্যন্ত ভালো হবে। আরও দুই বা তিন দিন সময় লাগতে পারে। এরপরই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে যাবে।

এর আগে মঙ্গলবার সেন্টকম জানায়, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন। এতে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, বিশেষ করে পঞ্চম নৌবহরের টাস্ক ফোর্স-৫৯ সহায়তা দেয়।

সেন্টকমের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, উদ্ধার হওয়া দুই সদস্যকে একটি মানববিহীন জলযান বা সামুদ্রিক ড্রোনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। এটি টাস্ক ফোর্স-৫৯ পরিচালনা করছিল, যার সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত।

এই ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে মানবচালিত ও মানববিহীন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করে।

মুখপাত্র জানান, ড্রোনটি উদ্ধার হওয়া সেনাসদস্যদের অন্য একটি স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাদের একটি হেলিকপ্টারে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।