ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি পশ্চিমা মিডিয়ার

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে কোমায় রয়েছেন বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান। সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে কোমায় রয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সি এই ইরানি নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়ে তার একটি পা হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য সান জানায়, পা হারানোর সঙ্গে পেট ও লিভারেও মারাত্মক জখম হয়েছেন মোজতবা খামেনি। তবে ঠিক কোন সময় আহত হয়েছেন তা স্পষ্ট করে জানা জায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনিও। ওই হামলায় তার ৮৬ বছর বয়সি বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য ওই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করেনি দ্য সান।
তেহরানে দ্য সানের একটি সূত্র নতুন নেতার শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা, অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই সূত্রের মতে, তেহরানের ঐতিহাসিক এলাকায় অবস্থিত সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। হাসপাতালের একটি অংশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সিলগালা করে রাখা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র দাবি করেছে, ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি লন্ডনে বসবাসকারী এক নির্বাসিত ভিন্নমতাবলম্বীর কাছে নানা উপায়ে বার্তা পাঠাতে সক্ষম হন।
সূত্রটি চিকিৎসক নন। তবে হাসপাতালের ট্রমা টিমের কয়েকজন সদস্যকে চেনেন বলে জানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন মোহাম্মদ রেজা জাফরগাজানি। জাফরগজানি বর্তমানে ইরানের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ ট্রমা সার্জন হিসেবেও পরিচিত।
দ্য সান–কে দেওয়া বার্তায় ওই সূত্রের দাবি, ‘তার এক বা দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তার লিভার বা পেটেও মারাত্মক জখম হয়েছে। তিনি সম্ভবত কোমাতেও আছেন।’
ফারসি উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০–এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ আট বছর কাজ করে জাফরগজানি ট্রমা চিকিৎসায় ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ৭০ বছর বয়সী এই সার্জন নিজেও সেই যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। পরে তিনি ইসলামপন্থি সরকারের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত চিকিৎসকদের একজন হিসেবে পরিচিত হন।
তবে ইরানে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবু বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরানের হাজারো যুদ্ধাহতদের তালিকায় মোজতবা খামেনির নাম ইতোমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এখন প্রকাশ্যে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরিকে ‘রমজানের জানবাজ’, অর্থাৎ আহত যুদ্ধসেনা হিসেবে উল্লেখ করছে।
এদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের চলমান হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি যেন এক ধরনের ‘অদৃশ্য আয়াতুল্লাহ’র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
খামেনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৩১টি আঞ্চলিক কমান্ড গঠন করার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই কাঠামোর উদ্দেশ্য ছিল, শাসনব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেন বিকল্প নেতৃত্ব দায়িত্ব নিতে পারে।
ফলে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব কমান্ডারকে এখন লড়াই চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি এমন যে, সংঘাত থামানোর মতো কোনো একক নেতা এখন সামনে নেই বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সংবিধান অনুযায়ী অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। তবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ফলে তার আহত হওয়ার জল্পনা আরও জোরালো হচ্ছে।