‘এখনও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা আছে ইরানের’

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, যুদ্ধে আমরা ভালো করেছি। কিন্তু মিত্র বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা করার মতো সক্ষমতা ইরানের এখনও রয়ে গেছে। এই বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) পেন্টাগনে ড্যান কেইন প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেছেন। এ সময় ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেটও উপস্থিত ছিলেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
ড্যান কেইন বলেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব ইরানি স্থাপনা ও ব্যবস্থার উপর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হামলা অব্যাহত রেখেছে।
পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো ধরনের আধিপত্য বা প্রতিবন্ধকতা বরদাশত করবে না।
ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার ইরাকে মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে জেনারেল ড্যান কেইন কথা বলেছেন। তিনি জানান, বিমানে থাকা ছয় ক্রুর মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। বাকি দুজন নিখোঁজ, তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। পশ্চিম ইরাকের যুদ্ধকালীন অভিযানে থাকা অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে। তবে তিনি এই ঘটনাকে কোনো শত্রু পক্ষ বা নিজেদের পক্ষের গুলিবর্ষণের ফলাফল ছিল না বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ইরান-সমর্থিত ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠী (আইআরআই) শুক্রবার মার্কিন বিমানে হামলার দায় স্বীকার করে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এ দায় স্বীকারকে কেন এড়িয়ে যাচ্ছে তার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।
‘ইরানের সব প্রতিরক্ষা কোম্পানি শিগগিরই ধ্বংস হবে’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, খুব শিগগিই ইরানের সব প্রতিরক্ষা কোম্পানি ধ্বংস হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, দুই দিন আগে পর্যন্ত ইরানের সম্পূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা এবং এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটি যন্ত্রাংশ তৈরি করে এমন প্রতিটি কোম্পানিকে কার্যকরীভাবে পরাজিত ও ধ্বংস করা হয়েছে। পুরো ইরানজুড়ে ভবন, কমপ্লেক্স এবং ফ্যাক্টরি লাইনগুলো এখন বিধ্বস্ত।
এ সময় আজ শুক্রবার রাতেই এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় মার্কিন হামলার দিন হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হওয়ার বিষয়ে হেগসেথ বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত এবং সম্ভবত বিকৃত হয়ে গেছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। আসলে সেটি একটি দুর্বল বিবৃতি ছিল, যাতে কোনো অডিও বা ভিডিও ছিল না। এটি ছিল কেবল একটি লিখিত বিবৃতি।
তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছে প্রচুর ক্যামেরা এবং ভয়েস রেকর্ডার রয়েছে। তবে কেন একটি লিখিত বিবৃতি? আপনারা জানেন কেন। তার বাবা মৃত। তিনি ভীত, তিনি আহত, তিনি পলায়নপর এবং তার কোনো বৈধতা নেই।
উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মোজতবা খামেনি। এরপর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তিনি অফিশিয়ালি মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি সশরীরে উপস্থিত হননি এবং তার বক্তব্যগুলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন উপস্থাপক পড়ে শুনিয়েছিলেন।