এবার লারিজানির নিহতের খবর নিশ্চিত করল ইরান

দখলদার ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এ তথ্য জানায়।
আইআরজিসি বিবৃতিতে জানায়, ইরান ও ইসলামি বিপ্লবের উন্নতির জন্য আজীবন সংগ্রামের পর আলী লারিজানি অবশেষে তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেছেন, সত্যের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শাহাদাতের বরকতময় মর্যাদা লাভ করেছেন।
লারিজানি ইরানের পার্লামেন্টের প্রাক্তন স্পিকার এবং ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ব্যক্তিত্ব। একসময় তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনায়ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আল-কুদস দিবসের র্যালিতে প্রকাশ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) আধা-সামরিক বিাহিনীর বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলাম সোলেইমানির নিহতের খবর নিশ্চিত করে ইরান।
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর বদলা নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও।
চলমান এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি দিনদিন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে তেলের দাম প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।