পশ্চিমবঙ্গে আরও ১৮ জন আটক, বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চায় বিএসএফ

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার কুলতলীর গোদাবর এলাকায় একটি ইটভাটা থেকে ১৮ জন কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে রাজ্য পুলিশ। আপাতত তাদের ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবিরে রাখা হয়েছে। তবে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চায় বিএসএফ (ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী)।
বুধবার (৩ জুন) গোপন সূত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্য পুলিশ। আটকদের মধ্যে ১২ জন নারী-পুরুষ ও বাকি ছয়জন শিশু।
পুলিশের দাবি, আটকরা স্বীকার করেছে যে, তারা প্রত্যেকেই দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে কাঁটাতারের বেড়া টপকে ভারতে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত পার করার জন্য দালালদের মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।
ভিসা, পাসপোর্ট বা ভারতের কোনো বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ছাড়াই কেউ দুই বছর, আবার কেউ দীর্ঘ তিন বছর ধরে এই এলাকায় অত্যন্ত নিশ্চিন্তে বসবাস করছিল।
পুলিশের সূত্র জানায়, ভারতে অনুপ্রবেশের পর ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে তারা প্রথমে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙড়, পরে সুন্দরবনের বিভিন্ন ইটভাটায় নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ দিনমজুর বা শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। ইটভাটার মালিক বা স্থানীয় প্রশাসন, কেউই তাদের পরিচয় টের পায়নি বলে দাবি করেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের থানায় এনে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, তাদের মধ্যে থাকা ছয় শিশুকে সার্বিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবং বাকিদের প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার পর আপাতত একটি ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ বা আটক শিবিরে পাঠানো হয়েছে।
বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সঙ্গে সুনির্দিষ্ট চ্যানেলে যোগাযোগ করে বিজিবি তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চায় বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
