logo

প্রয়োজনের সময় পাশে পাইনি, ন্যাটোকে ট্রাম্প

প্রয়োজনের সময় পাশে পাইনি, ন্যাটোকে ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকের পর পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ন্যাটোকে একটি অকার্যকর জোট হিসেবে অভিহিত করেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ট্রাম্প তার পোস্টে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, বিপদের সময় ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। আমাদের যখন ন্যাটোর সাহায্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন তাদের দেখা পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে যদি আমাদের আবার সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখনও তারা থাকবে না।

পোস্টে গ্রিনল্যান্ডকে স্মরণ করে ওই অঞ্চলটিকে ‘বাজেভাবে পরিচালিত একটি বড় বরফের টুকরো’ হিসেবে ব্যঙ্গ করেন ট্রাম্প। 

উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে কিনে নেওয়ার বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ওই সময় ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছিল ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ন্যাটোর সেই বিরোধিতারই পাল্টা প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা ছিল অত্যন্ত খোলাখুলি ও স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের পর বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে মিত্রদের সমর্থন না পাওয়ার অজুহাতে ন্যাটো থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে একটি ‘পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই পরীক্ষায় ন্যাটো ব্যর্থ হয়েছে তা স্পষ্ট হয়েছে।

লেভিট সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ট্রাম্প ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে একটি ‘সরাসরি আলোচনার’ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ন্যাটোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক দীর্ঘকালের। তিনি এর আগে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য মিত্রদের ওপর সফলভাবে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, আবার ন্যাটোর মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকিও দিয়েছিলেন। ইরান পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হওয়ায় ট্রাম্প আবারও তার লক্ষ্য ন্যাটোর দিকে স্থির করেছেন।