ইরানের এক-দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এখনও হামলা চালানো বাকি: ট্রাম্প

ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির আরও এক বা দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এখনও হামলা চালানো বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব স্থাপনার মধ্যে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে তেহরানকে পুরোপুরি বিশ্বাস করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে নতুন করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আপাতত তাড়াহুড়ো করছে না ওয়াশিংটন।
ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তার হিসাবে এখনো এক বা দুটি স্থাপনা বাকি রয়েছে। চাইলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই সেগুলোতে হামলা চালানো সম্ভব।
‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ স্থাপনাটির বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে হবে। চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব।
তবে ইরান সরকার ওই স্থানে কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথও খোলা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এমনকি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন তিনি। ফলে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা চলার পাশাপাশি নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও রয়ে গেছে।

