হরমুজ প্রণালি নিয়ে ন্যাটো ও চীনের ওপর ট্রাম্পের চাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি সচল রাখতে এবার ন্যাটো ও চীনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক শক্তি ও কূটনীতির সংমিশ্রণে তৈরি এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো— উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও সক্রিয় করা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুক্তি হলো অনেক মার্কিন মিত্র দেশ জ্বালানি তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি নির্ভরশীল। তাই হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব একা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর না রেখে এসব দেশের উচিত নিজস্ব সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি করা।
এই দাবির সঙ্গে ট্রাম্প এক বিশেষ হুঁশিয়ারিও জুড়ে দিয়েছেন। তিনি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপীয়দের শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক জোট ন্যাটো মিত্রদের সতর্ক করে বলেছেন, যদি তারা এই সংকটে এগিয়ে না আসে, তবে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘অন্ধকার’ বা ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে। সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন। রোববার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটির বরাতে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ট্রাম্প এই লক্ষ্যে শুধু ন্যাটোকে নয়, চীনকেও পাশে চায়। সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীন যদি এই প্রণালি সচল রাখতে জোরালো ভূমিকা না রাখে, তবে চলতি মাসের শেষভাগে চীনে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে তার যোগ দেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। বেইজিংকে চাপে রাখতেই ট্রাম্প তার সফর স্থগিতের এই প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি মূলত ‘দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার’ একটি প্রচেষ্টা। বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই অঞ্চলের পাহারাদার হতে চাচ্ছে না। জ্বালানি সরবরাহ যেন বিঘ্নিত না হয়, এ লক্ষ্যে বড় শক্তিগুলো এগিয়ে আসুক এটাই ট্রাম্পের চাওয়া। যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে বড় ধরনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই মন্দা ঠেকাতেই মূলত ট্রাম্প বহুমুখী তৎপরতা শুরু করেছেন।