ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় সৌদি জোটের বিমান হামলা

ইয়েমেনের হোদেইদাহ প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সমুদ্রবন্দর ও একটি তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) হুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রাস ইসা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাজিল জেলার একটি তেল স্থাপনায় হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
আল-আসবাহি এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বারবার হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব হামলা ইয়েমেনে বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের ধারাবাহিকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।’
এর আগে হুতি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, রাস ইসা বন্দরের একটি জেটি ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
হোদেইদাহ ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর। দেশটির হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ এটি। শহরের উত্তরে অবস্থিত রাস ইসা বন্দর দিয়ে তেল আমদানি ও সংরক্ষণ করা হয়।
এদিকে, হুতি গণমাধ্যমের দাবি, রোববার একই প্রদেশে হোদেইদাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদেও বিমান হামলা চালানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় দুই বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিষ্ক্রিয় করতে তারা ‘নির্ভুল অভিযান’ পরিচালনা করেছে।
ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের অবসানে ২০২২ সালে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সৌদি নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমা উপেক্ষা করে হুতিরা রাজধানী সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়ার পর গত জুলাইয়ে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এর পর থেকে দেশটিতে নতুন করে হামলা ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তিন লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
