logo

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা-মোদি-অমিত শাহের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা-মোদি-অমিত শাহের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

কলকাতায় সংবাদ সম্মেলন করে বিজেপির পক্ষে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শুক্রবারের (১০ এপ্রিল) সেই অনুষ্ঠানে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে শাহ বলেন, একবার বিজেপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিন, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ (ডিটেক্ট), ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া (ডিলিট) এবং তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার (ডিপোর্ট) নীতি নেওয়া হবে। গোটা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত গবাদি পশু পাচারের ক্ষেত্রে মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন শাহ। 

মূলত অমিত শাহের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) হলদিয়ায় নির্বাচনি প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিযোগ ছিল- তৃণমূলের সরকারের আমলে বাংলা কেবলমাত্র অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা হয়ে উঠেছে।

এদিকে শুক্রবার একসঙ্গে চারটি নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মধ্যে হাড়োয়া বিধানসভার গোপালপুরের জনসভা থেকে বিজেপির দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্য তুলে ধরে অলআউট আক্রমণে নামেন মমতা। মমতা বলেন, বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা নয়, এটা মানবিক মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা। এখানে মানুষ ভালো থাকে, একসঙ্গে থাকে। সমস্ত ধর্মের অনুষ্ঠান একসঙ্গে পালন করে।

এরপরই মমতার তোপ শুরু হয় এসআইআর নিয়ে। মমতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কেন ভোটার তালিকা সংশোধন করল? এই তালিকা থেকেই তো মোদি বাবু, মোটা ভাই জিতেছিলেন। যদি এই তালিকায় অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, তাহলে তারা পদত্যাগ করুক। সীমান্ত রক্ষা করে কে? কেন্দ্রীয় সরকার। যদি কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকে থাকে, তবে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত। আমরা ঢোকাইনি। আমাদের ঢোকাবার ক্ষমতা নেই।’

মমতার অভিযোগ, রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ৬০ লাখ হিন্দু, ৩০ লাখ মুসলিম আছেন। আসামেও ২০১৮ সালে এনআরসির নামে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল, এর মধ্যে ১৩ লাখ হিন্দু এবং ৬ লাখ মুসলিম ছিল। আসলে বিজেপি কেবল হিন্দু-মুসলিম করে। এদের লজ্জা থাকা উচিত। সৌদি আরবে গেলে সেখানকার নবারের সঙ্গে কোলাকুলি করে, তখন মনে থাকে না কোনটা হিন্দু কোনটা মুসলিম?

মমতার আশঙ্কা, তালিকায় যাদের নাম উঠেছে, তাদের আগামী দিনে কোনো ঠিকানা না-ও থাকতে পারে। বিজেপির পরবর্তী পরিকল্পনা এনআরসি করবে। কিন্তু আমাদের সরকার থাকলে তা করতে দেব না। ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করতে দেব না।

বিজেপিকে দুমুখো সাপ মন্তব্য করে মমতা বলেন, তৃণমূলকে ভোট দিলে আমি আবার সরকার গঠন করব। আপনারা ভুলে যান কে প্রার্থী, ২৯৪টা আসনে আমিই প্রার্থী। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে যদি সব সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতে চান, তাহলে বিজেপির মিথ্যা কথায় ভুলবেন না। বিজেপি দুমুখো সাপ। নির্বাচনের সময় একটা ছোবল দেয়, নির্বাচনের পর আর একটা ছোবল দেয়। যদি ছোবল খেতে না হয়, তবে তৃণমূলকেই ভোট দিন।

মমতার দাবি, অন্যবারের নির্বাচন থেকে এই নির্বাচন অনেক আলাদা। তাই গতবারেও যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তারা এবার দেবেন না।

এদিকে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতির অবসান- এককথায় পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখেই নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে বিজেপি। অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে নারী, যুবদের মাসিক ৩ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, সবার জন্য এক আইন চালু হবে।

অমিত শাহ বলেন, গত ১৫ বছর একপ্রকার বাংলার জন্য, বাংলার মানুষের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো অতিবাহিত হয়েছে। অনেক আশা নিয়ে বাম শাসনের অবসান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাংলার মানুষ মমতা দিদিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কিন্তু ১৫ বছর পর, সেই মানুষেরাই আজ ভীত, হতাশ। আজ মন থেকে তারা পরিবর্তন চাইছে। এই ইশতেহার বাংলাকে নিরাশা থেকে বের করে আলোর দিশা দেখাবে।