ইরানের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার খরচ ড্রোন উৎপাদনের কয়েক গুণ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। এই হামলাকে সরাসরি সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে তেহরান। হামলার পরপরই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয় তারা। দেশটির সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী ইসরায়েলি ভূখণ্ডের পাশাপাশি ইরানের পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটির দিকে ইরানের আলোচিত ‘শাহেদ’ ড্রোন নিক্ষেপের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরায়েল তাদের বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও ড্রোনগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সেগুলো প্রতিহত করার প্রচেষ্টা নিয়ে বিশ্লেষক রব গেইস্ট পিনফোল্ডের সঙ্গে কথা বলেছে আলজাজিরা। লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক এই প্রভাষক বলেন, ‘শাহেদ ড্রোনগুলো খুবই সস্তা এবং উৎপাদন করাও অত্যন্ত সহজ। এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে যে প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন হয়, তার মূল্য ড্রোনগুলোর চেয়ে অনেক গুণ বেশি। তাছাড়া ড্রোনগুলো এমনিতেই আত্মবিধ্বংসী।’
গেইস্ট পিনফোল্ড বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে মূল কৌশলগত প্রশ্ন হলো—যখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে আসতে শুরু করবে, তখন কী হবে?’
এর জবাবও তিনিই দেন। এই বিশ্লেষক বলেন, ‘তখন তাদের সামনে দুটি পথই খোলা থাকবে—একটি যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া, অথবা নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষা কৌশল থেকে সরে এসে সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যাওয়া।’
এই ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে স্বল্পমূল্যের এবং আত্মঘাতী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর নিজেই বিস্ফোরিত হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান একদিকে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে তুলনামূলক কম ব্যয়ে দীর্ঘস্থায়ী চাপ বজায় রাখার কৌশল নিচ্ছে।