শান্তি আলোচনায় সাংবাদিকের জন্য নেই আপ্যায়নের ব্যবস্থা, নৈশভোজে প্রতিনিধিদল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ছয় সপ্তাহের সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসেছেন ত্রিপক্ষীয় প্রতিনিধিদল। এই ঐতিহাসিক সংলাপ ঘিরে গোটা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র দুটির বৈঠকের ফলাফলের সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শত শত সাংবাদিক এসেছেন ইসলামাবাদে। বৈঠকস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার খুলেছে পাকিস্তান সরকার।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিলাসবহুল পাঁচ তারকা সেরেনা হোটেলে আলোচনার শুরুর অনেক আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন সাংবাদিকরা। কর্মব্যস্ততায় দিন কাটলেও সারাদিন অনাহারে কেটেছে এসব সাংবাদিকদের। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। এ খবর জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিডিয়া সেন্টার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। পাকিস্তান সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাস কার্ড পাওয়া গুটি কয়েক সাংবাদিক ব্যতীত সেখানে প্রবেশের সুযোগ পাননি বেশিরভাগ গণমাধ্যমকর্মীরা। যারা পাস কার্ড পেয়েছেন তাদেরও ওই হোটেলের বাইরে চেকপয়েন্টে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রতিনিধিদলের সদস্যদের গাড়িবহর যাওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের ‘কিছু সময়’ চেকপয়েন্টে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
এদিকে মিডিয়া সেন্টারে সরকারের পক্ষ থেকে ছিল না কোনো ব্রিফিং। বৈঠকের বিষয়ে হালানাগাদ কোনো তথ্যও দেওয়া হয়নি। ফলে মিডিয়া সেন্টারে বসে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে সরাসরি প্রাচ্যের লোকসংগীত উপভোগ করা ছাড়া কোনো কাজ ছিল না। সরকারের তরফ থেকে লোকসংগীত পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্থানীয় শিল্পীরা একটি ছোট মঞ্চে গান পরিবেশন করেন। সেতার বাদক আমির হুসেন খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি একজন পেশাদার সংগীতশিল্পী এবং গানের তালিম দেই।’
অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশাধিকার পাওয়া সাংবাদিকরা চেকপয়েন্টে অবস্থান করার সময় ভেতরে একটি স্টলে জমকালো পরিবেশ, বিয়ের ভোজের মতো করে সাজানো বিরিয়ানি, কাবাব ও গোলাপ জামুন, সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ও ইথিওপিয়ান বিন থেকে তৈরি গুরমে কফি দেখতে পান। স্টলটির দায়িত্বে থাকা একজন বলেন, ‘আমরা শুধু আজকের দিনের জন্যই এই ব্র্যান্ডিংটা করেছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক এএফপিকে বলেন, ‘আমি চরম বিরক্ত হয়ে গেছি।’ আরেকজনও একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, ‘এখানে করার মতো তেমন কিছু নেই।’ তিনি জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রাজধানীতে অবতরণের কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে নতুন তথ্য আসতে শুরু করে।
অন্যদিকে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা মুখোমুখি টেবিলে প্রথম পর্বের আলোচনা শেষে নৈশ্যভোজের বিরতি দেওয়া হয়। নৈশ্যভোজ শেষে পুনরায় আলোচনায় অংশ নেন ত্রিপক্ষীয় কূটনীতিকরা। ইরান ও যুক্তষ্ট্র উভয় পক্ষই চরমপন্থি অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। কিন্তু জানা গেছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্তকরণ, হরমুজ প্রণালি এবং আরও কয়েকটি বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে।