সিকিমে নির্মানাধীন টানেল ধসে নিহত ৮, আটকা ১৮

ভারতের সিকিমের নামচি জেলায় এনএইচপিসির তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মানাধীন টানেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ের ধস নেমে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিকের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে অন্তত ১৮ জন এখনও টানেলের ভেতর আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ নামচি জেলার ঝোলুঙ্গের সামারডুং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রকল্পের নির্মানাধীন এডিট-৩ টানেলের প্রবেশমুখে আচমকা বড়সড় ধস নামে। ধসে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পাথরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র বেগে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে।
সিকিম প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে মোট ২৭ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন শ্রমিক, ২ জন প্রকৌশলী এবং এনএইচপিসির ৬ জন আধিকারিক ছিলেন। নামচির জেলাশাসক আনুফা তামলিং জানান, ভেতরে আটকে পড়া ২৭ জনের মধ্যে ২১ জন ঠিকাদার সংস্থা ‘প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কর্মী এবং ৬ জন এনএইচপিসির কর্মী। তবে বেসরকারি তথ্যমতে, সেই সময় টানেলের ভেতরে ৩৮ জন আটকে ছিলেন।
ঘটনার পর জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জেলা পুলিশ এবং ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত এক এক করে ৮টি লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। জীবিত কিন্তু আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১২ জনকে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো গ্যাংটকের এসটিএনএম হাসপাতাল, সিংতাম জেলা হাসপাতাল এবং নামচি জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ভেতরে আটকে থাকা বাকিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। একজনও ভেতরে আটকে থাকলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে। তবে এলাকায় প্রবল বৃষ্টি, টানেলের ভেতরে ঘন অন্ধকার এবং উপচে পড়া তীব্র মিথেন গ্যাসের কারণে উদ্ধারকাজ বারবার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা সুরক্ষামূলক গ্যাস মাস্ক পরেই প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মী বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অক্সিজেনের অভাবে ও গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন উদ্ধারকর্মী মাথা ঘুরে পড়ে যান এবং অনেকে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।
.png)






