logo

এবার ইতালি ও স্পেনকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প

এবার ইতালি ও স্পেনকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি নতুন করে খতিয়ে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে তিনি যেসব দেশ থেকে সেনা সরানোর হুমকি দিচ্ছেন, সেই তালিকায় এখন ইতালি ও স্পেনও যুক্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি হয়তো এমন পদক্ষেপ (সেনা সরানো) নিতে পারেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সমালোচনা করেছে ইতালি ও স্পেন। তাই তিনি বলেন, ‘আমি কেন করব না? ইতালি আমাদের কোনো সাহায্য করেনি, আর স্পেন ছিল খুবই খারাপ।’

ইতালির সাতটি মার্কিন ঘাঁটিতে ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন আছে। স্পেনে ৩ হাজার ২০০ মার্কিন সৈন্য রয়েছে। তাদের অধিকাংশই রোটা নৌঘাঁটি ও মোরোন বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে।

উভয় দেশই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করেছে। এই সংঘাতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য বারবার দেশগুলোর সরকারের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকা ইতালির জর্জিয়া মেলোনি সংঘাতে রোমের যোগদানে অনিচ্ছার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ট্রাম্পের মতে, তার ‘সাহসের ঘাটতি ছিল’। এ ছাড়াও পোপ লিও সম্পর্কে ট্রাম্পের ‘অগ্রহণযোগ্য’ মন্তব্যের সমালোচনা করার কারণেও এই সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় তিনি ইরানের যুদ্ধের জন্য অস্ত্র বহনকারী মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে সিসিলির একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেননি।

অন্যদিকে, স্পেনের পেদ্রো সানচেজ একেবারে শুরু থেকেই ইরানে যুদ্ধের সবচেয়ে সোচ্চার ইউরোপীয় সমালোচক ছিলেন। এর জবাবে ট্রাম্পের কাছ থেকে বারবার নানা ধরনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা ন্যাটো সদস্যপদ স্থগিত করার মতো হুমকিও ছিল (বাস্তবে ঘটার কোনো সম্ভাবনাই নেই)।

তারা এখন জার্মানির ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের বিরক্তির প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন মের্জ। জ্বালানি ও অভিবাসন বিষয়ে তার অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসনে সম্পৃক্ততা এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য কঠোর সমালোচিত হচ্ছিলেন তিনি।

ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এটা সত্য নয় এবং ‘আমরাও নৌপরিবহন সুরক্ষার একটি অভিযানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছি’। মার্কিন সামরিক বাহিনী তাতে অত্যন্ত প্রশংসা করেছিল। কিন্তু আমি তার নাখোশ হওয়ার কারণগুলো বুঝতে পারছি না।

তবে স্পেনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া আসেনি।

কিন্তু ট্রাম্পের কাছ থেকে একই ধরনের হুমকির সম্মুখীন হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত সপ্তাহে রয়টার্স পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশ করে, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে স্পেনকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছিল।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান