ইরানি দ্বীপ দখলের চেষ্টায় সহযোগিতা করলে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের কোনো দ্বীপ দখল করার চেষ্টা করা হলে, যারা দখলের চেষ্টা করবে এবং যারা তাদের সাহায্য করবে তাদের ওপর ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
আলজাজিরার খবর জানাচ্ছে, গত বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের প্রতিবেশী দেশের সহায়তায় শত্রুরা ইরানের একটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। এই অভিযানে যে দেশ সহায়তা করবে, ইরানের বাহিনী সেই দেশের মৌলিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অবিরাম ও বিধ্বংসী হামলা চালাবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হুঁশিয়ারির লক্ষ্য মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাত। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে এবং আমিরাত তাতে সহযোগিতা করতে পারে।
এদিকে পারস্য উপসাগরে হাজার হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার সৈন্য এবং বিশাল একটি উভচর যুদ্ধজাহাজে করে মার্কিন নৌসেনারা কয়েক দিনের মধ্যেই এই অঞ্চলে পৌঁছাবে।
সামরিক এই উত্তেজনার মধ্যেই হোয়াইট হাউস থেকে ইরানকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ‘ইরানকে পরাজয় মেনে নিতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফাঁকা বুলি দিচ্ছেন না। ইরান যদি বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ওপর এমন আঘাত হানা হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’
অন্যদিকে, শান্তি আলোচনার গুঞ্জন নিয়ে ইরানের ভেতরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে। তেহরানের বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষ এখন যুদ্ধ অবসানের চেয়ে বরং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ডে হামলা বাড়লে তারা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র খুলে দিতে পারে। এমনকি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও এই লড়াইয়ে ইরানের পক্ষ হয়ে যোগ দিতে প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরান আলোচনার জন্য মরিয়া, তবে তেহরান আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা অস্বীকার করছে। অবশ্য পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।