যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে চায় ইরান

ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব ও শত শত নাগরিক হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে চায় তেহরান। তারা বলেছে, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক ‘আইনের লঙ্ঘন’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বিষয়টি ইরানের বাইরে বিস্তৃত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, আমার মনে হয়, কেবল ইরান নয়—পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি করছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা করেছে তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ। এটা যুদ্ধাপরাধ; মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তাই তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কাজ আমাদেরই করতে হবে।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ড জেনেভা কনভেনশনগুলোয় বর্ণিত নীতিগুলোর লঙ্ঘন। সব রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন মানা ও তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
তিনি বলেন, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের করা নৃশংসতা এসব নীতির পরিপন্থি, তাই আমি মনে করি—জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানানো।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান দেশীয় সব ব্যবস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধগুলোর জন্য তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি এগিয়ে নেবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে সর্বোচ্চ নেতা (সাবেক) আলী খামেনিও রয়েছেন। গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানে হওয়া সরাসরি আলোচনা হলেও তা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আবারও আলোচনার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে উভয় পক্ষ।