থাই জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিচ্ছে ইরান

থাইল্যান্ডের তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে দেশটি। থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এই চুক্তি থাইল্যান্ডের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ লাঘব করবে। কারণ, আমরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল।’
এএফপির প্রতিবেদন জানায়, অনুতিন বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুর দিকে হরমুজ প্রণালিতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছিল। পরে ওমানের নৌবাহিনী সেই জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করে, যদিও তিনজন ক্রু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।’
এর আগে ইরান সরকার জানিয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাংলাদেশ, ভারত, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও ইরাকের মতো বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়।’
এ ছাড়া রয়টার্সের খবরের বরাতে গত ২৬ মার্চ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই পথে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত এই তালিকায় আছে। গত কয়েক দিন আগে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু দেশ, এমনকি আমার জানামতে বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। এই দেশগুলো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সমন্বয় বজায় রাখছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভবিষ্যতেও এই দেশগুলোর জন্য আমাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য পথ খোলা রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তেহরান। আরাগচি বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চলটি একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই আমাদের শত্রু এবং তাদের সহযোগীদের জাহাজ এখান দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’