সিএনএনের বিশেষ প্রতিবেদন/চীনের সরকারি চাকরিতে কঠোর নিয়মের বেড়াজাল

বিদেশের একটি ছিমছাম বিমানবন্দর। সেখানে হঠাৎ আলাপ এক বিদেশি যুবকের সঙ্গে। সেই আলাপ দ্রুতই গড়ায় গভীর ভালোবাসায়। একপর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন চেনা জীবনটাকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার, অর্থাৎ বিয়ে করার। কিন্তু বিয়ের এই মিষ্টি খবর শুনে ওই তরুণীর সহকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানাতে পারলেন না। উল্টো বিভাগীয় প্রধানের নির্দেশে সহকর্মীরা তাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ‘একটি বিয়ের জন্য নিজের এত বড় সরকারি চাকরিটা খোয়ানো কি ঠিক হবে?’
এটি কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং চীনের এক সরকারি চাকরিজীবী নারীর জীবনের বাস্তব চিত্র। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় সংবাদমাধ্যম সিএনএন তার নাম প্রকাশ করেনি। লাখ লাখ চীনা সরকারি কর্মচারীর মতো এই নারীও রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত একটি অলিখিত কঠোর নিয়মে বন্দি। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা রাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য’ জানা কোনো ব্যক্তি কোনো বিদেশিকে বিয়ে করতে পারেন না।
ব্যক্তিগত জীবনের ওপর সর্বগ্রাসী নজরদারি
বিষয়টি কেবল বিয়েতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এবং রাষ্ট্রীয় খাতের চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত জীবন কঠোর নজরদারির আওতায় এসেছে। বিবাহবিচ্ছেদ, বিদেশভ্রমণ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ; সব ক্ষেত্রেই দল ও সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দূর করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন শি জিনপিং। তবে কোটি কোটি সরকারি কর্মচারীর জন্য এটি এক কঠিন দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছে। একদিকে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার, অন্যদিকে দলের প্রতি আনুগত্য এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হচ্ছেন তারা।
জার্মানির বার্লিনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘মেরিকস’-এর রাজনীতি ও সমাজ কর্মসূচির প্রধান কাতিয়া ড্রিনহাউসেন বলেন, ‘শি জিনপিংয়ের আমলে ব্যক্তি, দল এবং রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যের মধ্যে যে একীভূতকরণ ঘটেছে, তা পূর্ববর্তী যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও কঠোর।’
বিশাল রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা
চ্যানেলের ক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় কোনো স্তরে থাকতে হলে চীনে অবশ্যই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হতে হয়। আর দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া মানেই রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অবসান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেরই সরকারি চাকরিতে নিজস্ব কিছু নিয়ম ও তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে চীনের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণের পরিধি এবং ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যা অবিশ্বাস্য রকমের বিশাল। ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের সরকারি খাতে প্রায় ৭ কোটি মানুষ কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে চীনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত বাড়ছে, বেইজিং তাদের গুপ্তচরবৃত্তি বিরোধী অভিযান তত জোরদার করছে। রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের আশঙ্কায় বিদেশিদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ককে এখন সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও এই কঠোর নিয়মের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। শি জিনপিং মনে করেন, সিসিপি-র টিকে থাকা এবং ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে কঠোর শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর।
সামরিক বাহিনীতে চরম শুদ্ধি অভিযান
চীনের দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে পৌঁছেছে। এটি লাখ লাখ প্রবীণ নেতা এবং সাধারণ কর্মকর্তাদের গ্রাস করেছে। সম্প্রতি এই শুদ্ধি অভিযান চীনের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে আঘাত হেনেছে। শি জিনপিং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি)-এর সাত সদস্যের প্রায় সবাইকে বরখাস্ত বা অপসারিত করেছেন।
এখন সিএমসিতে কেবল শি জিনপিং নিজে এবং আরেকজন সদস্য ঝাং শেংমিন টিকে আছেন। অপসারিতদের মধ্যে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শ্যাংফুকে দুর্নীতির দায়ে দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি সর্বশক্তিমান ২৪ সদস্যের পলিটব্যুরোতেও এখন মাত্র ২১ জন সদস্য অবশিষ্ট আছেন।
ক্ষমতার মোহ বনাম ‘লোহার ভাতপাত্র’
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে হলেও চীনের তরুণেরা কেন সরকারি চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেশ কয়েকজন সরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, ‘ক্ষমতার মোহ বড় তীব্র। চীনের ব্যবস্থায় প্রবেশ করা মানেই হলো একধাপ ওপরে থাকা এবং অন্যদের চেয়ে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।’
বর্তমানে চীনের বেসরকারি খাতের সুযোগ-সুবিধা সংকুচিত হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আবাসন খাতের সংকট এবং তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্বের কারণে সরকারি চাকরিকে মানুষ সবচেয়ে নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয় হিসেবে দেখছে, যা চীনে ‘লোহার ভাতপাত্র’ নামে পরিচিত। গত বছর মাত্র ৩৮,১০০টি শূন্যপদের বিপরীতে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য প্রায় ১০০ জন অত্যন্ত মেধাবী তরুণ প্রতিযোগিতা করেছেন।
পাসপোর্টের চাবিকাঠি সরকারের হাতে
যারা নতুন চাকরিতে ঢুকছেন, তারা হয়তো এই কঠোর নিয়ম সম্পর্কে জেনেই আসছেন। কিন্তু যারা পুরো জীবন এই সিস্টেমে পার করেছেন, তাদের জন্য নতুন এই কড়াকড়ির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন হচ্ছে।
চীনের এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানান, ইউরোপের একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার ছেলের স্নাতক পাসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি বিমানের টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু তার প্রতিষ্ঠান শেষ মুহূর্তে তার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ করে দেয়।
তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম বিদেশ ভ্রমণের জন্য অনুমতির প্রয়োজন। ভেবেছিলাম ছয় মাস আগে জানালেই অনুমতি পাওয়া যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে দেশ ছাড়তে দেওয়া হয়নি। আমি এমনকি অর্গানাইজেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি আমাকে সরাসরি বলেন, এটি একটি লাল রেখা এবং এটি অতিক্রম করার সাহস কারও নেই।’
কর্মকর্তাদের বিদেশ যাওয়ার পর ব্যক্তিগত পাসপোর্ট সরকারি হেফাজতে জমা রাখা এবং ভ্রমণের পূর্বে তা ‘ধার’ নেওয়ার মতো জটিল নিয়মও চালু করা হয়েছে। ভ্রমণের সময় কোথায় যাচ্ছেন, কত দিন থাকবেন এবং কী কী করবেন তার প্রতিটি ক্ষুদ্র বিবরণ জমা দিতে হয়। এই প্রক্রিয়া এত জটিল যে অনেকেই আর বিদেশ যাওয়ার আবেদন করার আগ্রহ পান না। পরিচালক বা তার ওপরের পদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অবসরের পরও বিদেশ ভ্রমণের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকে।
বিবাহবিচ্ছেদ ও পরকীয়া যখন ‘নৈতিক স্খলন’
চীনে বিবাহবিচ্ছেদও এখন কর্মকর্তাদের নজরদারির আওতায় এনেছে। অতীতে দেখা গেছে, অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা অর্জিত অর্থ আড়াল করার জন্য তড়িঘড়ি করে বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন। যেমন আনহুই প্রদেশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দুর্নীতির তদন্তের খবর পেয়েই স্ত্রীকে তালাক দেন এবং আত্মসাৎ করা অর্থ সাবেক স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন। তাই এখন বিবাহবিচ্ছেদের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের খবরও বাধ্যতামূলকভাবে দলকে জানাতে হয়।
সামরিক বাহিনীর (পিএলএ) ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠিন। বিয়ের আগে জীবনসঙ্গীর রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করা হয়। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ই সেনাসদস্য হন, তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতা করেন এবং তাদের অনুমতি ছাড়া সিভিল ডিভোর্স অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দলীয় শৃঙ্খলায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়াকে ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। চীনের সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইনস্পেকশন (সিসিডিআই) বহু শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সময় তাদের এই নৈতিক স্খলনের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। নিয়মানুযায়ী, কোনো সদস্য পরকীয়ায় জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
সহকর্মীদের আড্ডা যখন রাত ১০টার পর
কমিউনিস্ট পার্টিতে সহকর্মীদের মধ্যকার বন্ধুত্বকেও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। দলের ভেতরে কোনো উপদল বা জোট গঠন প্রতিরোধে সহকর্মীদের একসঙ্গে দলগতভাবে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, ‘আমরা যদি একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া বা গল্প করতে না পারি, তবে আমাদের সম্পর্ক দূরত্বে রূপ নেবে। এখন আর সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
জানা গেছে যে, কিছু সহকর্মী এখন কর্মক্ষেত্রের চোখ ফাঁকি দিতে অফিস থেকে অনেক দূরে, রাত ১০টার পর গভীর রাতে নির্জন জায়গায় গোপনে দেখা করেন এবং নিজেদের মধ্যে খোশগল্প করেন। শি জিনপিং দলের ভেতর সম্পর্ককে ‘পবিত্র’ করতে চান, যাতে সবার আনুগত্য কেবল তার নেতৃত্বের প্রতি থাকে।
‘দলই আপনার পরিবার, দলই জীবন’
১৯২১ সালে কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর হাত ধরে গঠিত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১০ কোটি ১০ লাখের বেশি। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছে। আগে দল ও সরকারের ভূমিকা কিছুটা আলাদা করার চেষ্টা থাকলেও শি জিনপিং এখন দলের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
২০১৭ সালে তিনি দলীয় সনদে একটি স্লোগান অন্তর্ভুক্ত করেন: ‘সরকার, সেনাবাহিনী, সমাজ এবং স্কুল—পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ—সবকিছু পরিচালনা করবে দল।’
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফেলো এবং সিআইএ-র সাবেক চীন বিশ্লেষক জোনাথন সিন বলেন, ‘শি জিনপিং আসলে সিসিপি-কে সমাজের আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি চান দলের সদস্যরা কোনো উপপত্নী রাখবেন না, অফিশিয়াল মিটিংয়ের পর মদ বা খাওয়া-দাওয়ায় মত্ত হবেন না। শি জিনপিং চান প্রত্যেকে যেন দলের স্বার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।’
কঠোর নিয়মের বেড়াজালে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
সরকারি চাকরিজীবীরা মনে করেন, নিয়মগুলো অস্বস্তিকর হলেও তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। কারণ এই চাকরি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
কাতিয়া ড্রিনহাউসেন বলেন, ‘চীনের এই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত সতর্ক থাকতে হয়। এটিই এখন তাদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শি জিনপিংয়ের অধীনে কেবল কাজ ভালো করলেই চলে না, অফিসের ভেতরে এবং বাইরেও কঠোর নৈতিক নিয়ম মেনে চলতে হয়। তবেই একজন কর্মকর্তাকে ‘ভালো ক্যাডার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
লেখক পরিচিতি: সিলভি ঝুয়াং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর ‘সিনিয়র চায়না রিপোর্টার’ হিসেবে হংকংভিত্তিক এশিয়া-প্যাসিফিক সদর দপ্তরে কর্মরত। সিএনএনে যোগদানের আগে তিনি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর চায়না ডেস্কের সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন।



