Advertisement

মার্কিন হামলা স্থগিত ইরানে, যুদ্ধবিরতি নাকি নতুন কৌশল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মার্কিন হামলা স্থগিত ইরানে, যুদ্ধবিরতি নাকি নতুন কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

টানা দুই সপ্তাহের বোমাবর্ষণের পর ইরানে দুদিন ধরে স্থগিত রয়েছে মার্কিন বিমান হামলা। যদিও এ পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক পদক্ষেপ বলতে নারাজ বিশ্লেষকরা; বরং যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো হামলার পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন অনেকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো আকাশ প্রতিরক্ষার মজুদের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় হামলা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদও শেষের পথে। এই অবস্থায় হামলা অব্যাহত রাখা বিপজ্জনক বলে মনে করেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

অতীতেও যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যে ইরানে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সাময়িক এই নীরবতাকে বড় কোনো আক্রমণের নতুন ছক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। টানা ১৩ দিন পাল্টাপাল্টি হামলার পর আপাতত নতুন কোনো পদক্ষেপ নিতে কিছুটা সময় পিছু হটেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা জোরদার করেছে পাকিস্তান ও কাতার। এই মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে রোববার (২৬ জুলাই) ভোর পর্যন্ত ইরানে কোনো ধরণের বিস্ফোরণ বা বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস শনিবার (২৫ জুলাই) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে টানা দুই সপ্তাহের বোমাবর্ষণে বিরতি এলো।

ইরান জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব পেয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করে দেখছে। পাশাপাশি সামরিক তৎপরতার মধ্যেও কূটনীতির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।

এর আগে জুন মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে, যাতে যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত নিরসনে একটি চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার পথ তৈরি হয়। তবে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রবেশ করে।

ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচলে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করতে হবে।

অন্যদিকে ইরানের দাবি, এই প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল অবশ্যই তেহরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অধীনে নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।