ইসরায়েলের ৫৫ জ্বালানি স্থাপনার তথ্য ইরানকে দিয়েছে রাশিয়া

ইসরায়েলের অভ্যন্তরে থাকা ৫৫টি স্পর্শকাতর জ্বালানি অবকাঠামোর একটি বিস্তারিত তালিকা ইরানকে দিয়েছে রাশিয়া। এতে কৌশলগত গুরুত্ব অনুসারে তিনটি শ্রেণিতে স্থাপনাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র, নগর ও শিল্প জ্বালানি কেন্দ্র এবং স্থানীয় অবকাঠামো।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।
প্রতিবেদনে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আদান-প্রদান করা তথ্যের মাধ্যমে ইরান ইসরায়েলের জ্বালানি গ্রিডের ওপর নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম হয়। লক্ষ্যবস্তু স্থানগুলোকে তাদের কৌশলগত গুরুত্বের ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে গুরুতর উৎপাদন কেন্দ্র। এগুলো ধ্বংস করতে পারলে ইসরায়েলের জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে ওরোট রাবিন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রধান নগর ও শিল্প শক্তি কেন্দ্রগুলো রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো মূলত মধ্য ইসরায়েলে অবস্থিত এবং বৃহৎ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিষেবা দিয়ে থাকে। সর্বশেষ শ্রেণিতে রয়েছে স্থানীয় অবকাঠামো। এই লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্পাঞ্চল ও ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রে সহায়তা দেওয়া আঞ্চলিক সাবস্টেশন।
ইসরায়েলের দুর্বলতা সম্পর্কে রাশিয়ার মূল্যায়ন হলো, অনেক ইউরোপীয় দেশের মতো নয়, বরং ইসরায়েলের বিদ্যুৎ গ্রিডে উচ্চমাত্রার বিভ্রাট তৈরি করা। ইসরায়েল মূলত ‘এনার্জি আইল্যান্ড’। কারণ তাদের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করার প্রয়োজন হয় না।
রাশিয়ার গোয়েন্দারা ইরানকে সতর্ক করেছে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশে সামান্য ক্ষতিও বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট তৈরি করতে পারে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে (ব্ল্যাকআউট)। আর এমন প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা সহজে ঠিক করা যাবে না।
তবে তেল আবিবে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি ভিক্টোরভ বলেছেন, রাশিয়া ও ইসরায়েল অনেক আগেই জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছে। সংশ্লিষ্ট রুশ ও ইসরায়েলি সংস্থাগুলোর মধ্যে এই যোগাযোগ নিবিড়ভাবে বজায় রাখা হয়েছে। সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে আমরা গুরুত্ব দেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে বলে যে ‘অভিযোগ’ উঠেছে, রুশ রাজনৈতিকরা বারবার তার বিরোধিতা করেছেন।