ইরানে ‘বড় হামলার’ কথা ভাবছেন ট্রাম্প

চলতি বছরের শুরু থেকেই ইরান ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। হরমুজ প্রণালির কাছে রণতরী মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় পূর্ব প্রস্তুতির ঘোষণাও দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের হামলার হুমকিতে ভীত নয়। বরং হামলার জবাব দিতে ‘ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে’। এদিকে ইরানে ‘বড় ধরনের হামলার’ কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সংঘাতের পথেই হাঁটতে চলেছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির পর তেহরানে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একজন শীর্ষ উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আক্রমণ হলে ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প বর্তমানে যেসব বিকল্প বিবেচনা করছেন, তার মধ্যে রয়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী বলে বিবেচিত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বিমান হামলা। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানেও হামলার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।
তবে কীভাবে তিনি এগিয়ে যাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প। সূত্রগুলোর মতে, এই মাসের শুরুতে একটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন হওয়ার পর থেকে তার সামরিক বিকল্পের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সোমবার ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করেছে। ধীরে ধীরে ইরানের আরও কাছাকাছি অবস্থান নিচ্ছে। এই বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো অভিযানে সহায়তা করতে সক্ষম। একদিকে সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া, অন্যদিকে সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা আক্রমণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে।
এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশ্যে ঘোষিত লক্ষ্যগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানে দেশব্যাপী বিক্ষোভে সম্ভাব্য সহায়তা দিতে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলেন। ওই বিক্ষোভগুলো দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস অভিযানে শত শত মানুষ নিহত হয়।
গতকাল নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি’ করতে হবে, যার মূল শর্ত হবে ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কোনো আক্রমণ হলে তা গত গ্রীষ্মের অভিযানের তুলনায় ‘অনেক বেশি ভয়াবহ’ হবে। গত বছর মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছিল বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। ওমানের কূটনীতিকদের মধ্যস্থতায় এবং ট্রাম্পের বিদেশবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়। এসব যোগাযোগের মধ্যে মার্কিন সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে একটি বৈঠকের প্রস্তাবও ছিল। উল্লেখ্য, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ওই হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।