logo

বাধার মুখেও মার্কিন-ইরান সংলাপে মধ্যস্থতা করবে পাকিস্তান

বাধার মুখেও মার্কিন-ইরান সংলাপে মধ্যস্থতা করবে পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার দিকে ঠেলে দেওয়া অব্যাহত রাখতে চায় পাকিস্তান। তবে এই প্রচেষ্টার মাঝে ‘বাধা’ থাকার কথা স্বীকার করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি শান্তির পথে ঠিক কোন প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

আলজাজিরা বলছে, তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা (ইরান) যদি ওয়াশিংটনের শান্তি চুক্তির শর্ত মেনে না নেয়, তবে তিনি বোমা মেরে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরত পাঠাবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা সহজ করতে নানা প্রচেষ্টার অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ ও বাধা সত্ত্বেও পাকিস্তান মধ্যস্থতা এবং সংলাপকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ইসলামাবাদ ‘সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে অর্থবহ আলোচনার’ জন্য উপযোগী পরিস্থিতি তৈরিতে কাজ করছে।

তাহির আন্দ্রাবি বলেন, নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আস্থা রয়েছে। এর প্রমাণ, ইরান ২০টি পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজকে তাদের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার অনুমতি দিয়েছে। এই পদক্ষেপকে ‘শান্তির অগ্রদূত’ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

তবে এখনও সরু এই প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানি কোনো জাহাজ যাতায়াত করছে কিনা, তা তিনি নিশ্চিত করেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান তেল ও গ্যাস সরবরাহ সীমিত করা শুরু করে। তখন থেকেই হরমুজ রুট মূলত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এই অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি দাম বেড়েছে এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

আন্দ্রাবি ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যে অব্যাহত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন। গত ২৮ মার্চ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে ফোনালাপ হয়। তারা আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করার জন্য আস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। শান্তির জন্য সহায়ক ভূমিকার জন্য পাকিস্তানের প্রশংসা করেন পেজেশকিয়ান।