logo

ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলার’ ঘোষণা আইআরজিসির

ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলার’ ঘোষণা আইআরজিসির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ, বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ ২০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এমন অবস্থায় ক্ষোভে ফুঁসছে তেহরান। ঘোষণ দিয়েছে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলা’ চালিয়ে এর প্রতিশোধ নেওয়ার। 

ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে রোববার (১ মার্চ) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। 

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান। এই অঞ্চলে ‘অধিকৃত অঞ্চল এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হবে।

এর আগে, স্থানীয় সময় শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৩০টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। 

জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এতে বেশ কয়েকজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়। এরপরই ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।