logo

নৃত্যশিল্পী সেজে আসামি ধরল পুলিশ

নৃত্যশিল্পী সেজে আসামি ধরল পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

রঙিন আলো আর গানের তালে নাচ দেখতে মগ্ন ছিল দর্শকরা। ঝলমলে পোশাক পরে তাল মিলিয়ে নাচছিলেন কয়েকজন ‘নারী নৃত্যশিল্পী’। কিন্তু কেউ বুঝতেই পারেনি, সেই নাচের দলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পুলিশের বিশেষ অভিযানকারী সদস্যরা।

ঘটনাটি থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের থা লুয়াং এলাকার। এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে ধরতে অভিনব কৌশল নেয় স্থানীয় পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন কর্মকর্তারা। তবে প্রতিবারই ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাকে ধরতে সিনেমাকেও হার মানানো এক পরিকল্পনা সাজানো হয়।

অবশেষে পরিকল্পনা ও কৌশল সফল হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিতে আটক করতে সক্ষম হন কর্মকর্তারা। তাকে আটকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে ভাইরাল হয়। পুলিশের তোলা ওই ছবিতে ঝলমলে পোশাক, মেকআপ ও নাচের সাজে দেখা যায় ছয়জন কর্মকর্তাকে। ছবিতে থাকা সদস্যদের মধ্যে মাত্র একজনকে স্বাভাবিক নারী কর্মকর্তা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্য থাইগারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে আটক হওয়া সন্দেহভাজনের নাম মেখা ফা-ওয়াপ-ওয়াপ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৩টি মেথামফেটামিন বড়ি, মাদক সংরক্ষণের ২০০টির বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ এবং একটি মোবাইল ফোন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি রাস্তার উৎসব চলাকালে মেখাকে হাতেনাতে ধরতেই পুলিশ নৃত্যদলের ছদ্মবেশ ধারণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মকর্তারা উৎসবে অংশ নিয়ে সন্দেহভাজনের গতিবিধি নজরদারি করেন এবং সুযোগ বুঝে তাকে আটক করেন।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদক রাখাসহ অবৈধ স্লট মেশিন পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই জনপ্রিয় হলিউড চলচ্চিত্র ২১ জাম্প স্ট্রিটের সঙ্গে এই অভিযানের তুলনা করছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘বাস্তবেই ২১ জাম্প স্ট্রিটের দৃশ্য!’

এদিকে থাই পুলিশের এমন অভিনব ছদ্মবেশী অভিযান নতুন নয় বলেও জানা গেছে। এর আগে ব্যাংকক শহরে এক অভিযানে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (বিএমপিডি) সদস্যরা সিংহ নৃত্যদলের পোশাক পরে একাধিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল।

ইউনিটটি মাদক দমনের বাইরেও বিভিন্ন গুরুতর মামলায় ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে। জানা গেছে, একজন কর্মকর্তা শুকনো পাতা দিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর জন্য ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে কয়েকশ মিটার হামাগুড়ি দিয়েছিলেন।

একই সময়ে পৃথক অভিযানে আরেকজন কর্মকর্তা ধর্ষণ ও ভুক্তভোগীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক চীনা পর্যটককে গ্রেপ্তার করতে কুস্তিগীরের ছদ্মবেশ ধারণ করেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট