মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক ঘাঁটি

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে অঞ্চলটির অন্তত ১৯টি স্থানে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের একাধিক শহরে হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যেখানে মার্কিন বাহিনী কাজ করছে।
তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অনেক দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তাদের কূটনীতিক ও নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে। কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে।
এর আগে ইরান সতর্ক করেছিল, তাদের ওপর হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এসব ঘাঁটি কোথায় এবং কী ভূমিকা রাখছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো।
মধ্যপ্রাচ্যে কোথায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।
এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
মধ্যপ্রাচ্যে কত মার্কিন সেনা রয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয় ১৯৫৮ সালের জুলাই মাসে। লেবানন সংকটের সময় বৈরুতে যুদ্ধসেনা পাঠানো হয়। সে সময় লেবাননে প্রায় ১৫ হাজার মেরিন ও সেনাসদস্য অবস্থান করছিলেন।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের হিসাবে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। তারা বড় স্থায়ী ঘাঁটি ও ছোট অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করছে।
যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। এসব ঘাঁটি বিমান ও নৌ অভিযান, আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক শক্তি মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
নিচে অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির তথ্য দেওয়া হলো।
আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কাতার (Al Udeid Air Base)
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি। প্রায় ২৪ হেক্টর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন রাখা যায়। এখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা সদস্য অবস্থান করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করে এবং ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে পরিচালিত অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন, বাহরাইন (Naval Support Activity Bahrain)
বর্তমান মার্কিন নৌঘাঁটিটি ব্রিটিশ নৌঘাঁটি এইচএমএস জুফাইরের পুরোনো স্থানে অবস্থিত। এখানে প্রায় ৯ হাজার প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক ও বেসামরিক কর্মী রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এই ঘাঁটিতে। অঞ্চলজুড়ে জাহাজ, বিমান ও অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি কাজ করে। দেশটির সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাহরাইনের বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়েছে।

ক্যাম্প আরিফজান, কুয়েত (Camp Arifjan)
কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি বড় ঘাঁটি। ১৯৯৯ সালে নির্মিত এই ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রধান সরবরাহ, লজিস্টিক ও কমান্ড কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে সেন্টকমের দায়িত্বভুক্ত অঞ্চলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আল ধাফরা এয়ার বেস, সংযুক্ত আরব আমিরাত
এই ঘাঁটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিমান অভিযান পরিচালনায় জোর দেওয়া হয়। এ ঘাঁটিতে এফ-২২ র্যাপ্টর স্টেলথ যুদ্ধবিমানসহ উন্নতমানের বিভিন্ন নজরদারি বিমান, ড্রোন এবং আকাশ থেকে সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

এরবিল বিমান ঘাঁটি, ইরাক (Erbil Air Base)
উত্তর ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। এখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা কুর্দি ও ইরাকি বাহিনীকে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে।
