ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছেন চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দুদিনব্যাপী এই আলোচনা শুরু করেছেন।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে যোগ দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তারই অংশ হিসেবে ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠকের আয়োজন। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার ১৫ দফা প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠিয়েছে। ইরানও তার অবস্থান তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
পাকিস্তানে বৈঠকে বসা দেশগুলো জাহাজ চলাচল স্থিতিশীল করতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক করাই এই প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য।
এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
হরমুজ পুনরায় খোলার প্রস্তাব
তুরস্কের মতো পাকিস্তানেরও ইরানের সঙ্গে সীমান্ত এবং তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয়পক্ষের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই দ্বন্দ্বে পাকিস্তান একটি প্রধান কূটনৈতিক মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে আঙ্কারা এবং কায়রোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
একটি পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, রোববারের বৈঠকের আগেই দেশগুলো হোয়াইট হাউসের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার মধ্যে মিশরের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘সুয়েজ খাল’ সদৃশ শুল্ক বা ফি কাঠামোর প্রস্তাবও রয়েছে।
অন্য দুটি পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক, মিসর এবং সৌদি আরব এই জলপথ দিয়ে তেল প্রবাহ পরিচালনার জন্য একটি কনসোর্টিয়াম বা জোট গঠন করতে পারে এবং তারা পাকিস্তানকে এতে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। এই কনসোর্টিয়াম গঠনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয়পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করা হয়েছে।
সূত্রমতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
মিশর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। সৌদি সরকারি গণমাধ্যম এবং হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তুরস্কের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আঙ্কারার প্রধান অগ্রাধিকার হলো একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।