ইরানি তেল ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

সম্প্রতি ইরানের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নির্দেশ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ফলে সংস্থাটি ইরানের থেকে তেল ক্রয় করা দেশগুলোর কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। যদি তারা ইরান থেকে তেল কেনে, তাহলে তাদের দেশের শিল্পখাত ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা (সেকেন্ডারি স্যাংশন) আরোপ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ফক্স নিউজের ‘কুডলো’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
এ সময় তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড তিন সপ্তাহ আগে আবার (ইরানের ওপর) চাপ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল কেনা দেশগুলোর কাছে সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদি তারা ইরান থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের শিল্পখাত ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা (সেকেন্ডারি স্যাংশন) দেওয়া হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রায় ৩৫ কোটি ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করতে পেরেছি। সম্প্রতি পাওয়া আরও ১০০ কোটি সম্পদ এতে যোগ হওয়ায় সব মিলিয়ে এখন তা প্রায় অর্ধ বিলিয়নে পৌঁছেছে। আমরা সব জায়গায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করছি। আমরা সেগুলো ইরানি জনগণের জন্য রেখে দিচ্ছি।
বেসেন্ট ব্যাখ্যা করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অর্থনৈতিক অভিযান এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনাধীন ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে চলেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়কে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন। বেসেন্টের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ডিসেম্বরের দিকে ইরানের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায় এবং দেশটির সবচেয়ে বড় একটি ব্যাংক ধসে পড়ে।
তিনি বলেন, ফলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার মূল্য প্রায় ৬০ বা ৭০ শতাংশ কমে গেছে, তাই তারা মুদ্রা সংকটের মধ্যে রয়েছে। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নির্দেশ পেয়েছে, যার ফলে সংস্থাটি ইরানি তেলের ক্রেতাদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।