আবাসিক সিট বাতিল হলেও রাবির হল ছাড়েননি দুই নেতা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাবি
আবাসিক সিট বাতিল হলেও রাবির হল ছাড়েননি দুই নেতা
সাকিব জুবায়ের (বাঁয়ে) ও ইসরাফিল হোসাইন (ডানে)। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

আবাসিক সিট বাতিল করা হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হল ছাড়েননি হল সংসদের দুই নেতা। হল প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তরা হলেন শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইন এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিব জুবায়ের। অভিযুক্ত দুই নেতাই হলের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একটি কক্ষে ‘নারী থাকার সন্দেহে’ তল্লাশি চালানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কক্ষে কোনো নারী শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলের একটি ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টির অভিযোগে হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিব জুবায়ের এবং আবাসিক শিক্ষার্থী ফোরকান হাফিজ জিমের আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান। তবে এই আদেশ জারির পরও এজিএস ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ওই হলেই অবস্থান করছেন।

আবাসিকতা বাতিলের পরও হলে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরাফিল হোসাইন বলেন, ‘আপনি হল প্রশাসনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। এটি আমার জানার বিষয় নয়।’ অন্য অভিযুক্ত সাকিব জুবায়েরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান হল সংসদের ভিপি মোজাম্মেল হক বলেন, গত ১১ এপ্রিল হলে যে ঘটনাটি ঘটে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্ট স্যার বারবার বৈঠক করার পরও সেখানে একটি মব সৃষ্টি করা হয়। এরপর হল প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সংসদের এজিএস ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। তখন প্রশাসন বলেছিল, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। কিন্তু হল প্রশাসন এখনও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি।

তিনি দাবি করেন, আমরা হল প্রাধ্যক্ষকে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার বলেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে এটি তিনি সমাধান করতে পারবেন না, উপাচার্য (ভিসি) স্যার এর সমাধান দিতে পারবেন। তবে বর্তমানে হল সংসদের ওই দুজন হল প্রাধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই হলে অবস্থান করছেন।

অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান বলেন, আবাসিকতা বাতিলের পরেও যদি তারা হলে অবস্থান করে থাকে, তাহলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে তারা যদি দাপ্তরিক বরাদ্দ ছাড়া অন্য কারও রুমে অবস্থান করে, তাহলে সেটির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কম। অফিশিয়ালি তাদের পুনরায় সিট বা রুম ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।