জুয়া-বেটিং প্রতিরোধে শেরপুর পুলিশের বিশেষ বার্তা

সব ধরনের জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে শেরপুরে জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করবে। একইসঙ্গে জুয়া-বেটিংয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শেরপুর জেলা পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) শেরপুর জেলা পুলিশের এক ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন আইনের আওতায় ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অপব্যবহার, ভিপিএন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়া ও বেটিং সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে এবং শেরপুর জেলাকে জুয়া ও অপরাধমুক্ত রাখতে শেরপুর জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের জুয়া, অনলাইন বেটিং বা এ সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে নতুন আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসাথে অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে জেলা পুলিশ।
নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আশপাশে সংঘটিত যেকোনো জুয়া বা অবৈধ বেটিং সংক্রান্ত তথ্য শেরপুর জেলা পুলিশকে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।
শেরপুর জেলা পুলিশের তথ্যমতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা এশিয়া পোস্টকে বলেন, জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে শেরপুর জেলা পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। নতুন আইনের আলোকে এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জুয়া ও বেটিং সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে আমরা নিয়মিত নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা, অনলাইনে নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করছি।
তিনি আরও বলেন, একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত শেরপুর গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ এ ধরনের অপরাধের তথ্য জানালে তার পরিচয় সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সকল প্রকার জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বাংলাদেশ সরকার জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। আইনটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।




