এক বছরের মধ্যে সেশনজট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এক বছরের মধ্যে সেশনজট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট সাত মাস কমিয়ে আনা হয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে সেশনজট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ময়মনসিংহের টাউন হলে অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তনের কাজ চলছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, যেসব কোর্স পড়লে দেশের বাইরে চাকরি পাওয়া যায়, সেগুলোকে অনার্সের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা দেওয়া হবে। তিন হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে জুলাই স্মৃতি পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে শিক্ষার্থীরা পুরস্কার নেবেন। শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষা কারিকুলাম ইতোমধ্যে দুবার সংশোধন হয়েছে এবং তৃতীয়বারের জন্য প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি, ট্রেড কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা প্রায় ৩৯টি সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। এর মধ্যে কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, আর কিছু সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্লামেন্টে আইন পাসের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের উচ্চশিক্ষাকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই প্রত্যাশা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।

বছরে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ গ্র্যাজুয়েট চাকরি পাচ্ছে না উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী চাকরি পাচ্ছেন না।

এই হিসাব অনুযায়ী, ১০ বছরে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী বেকার থেকে যাবেন। অর্থাৎ আমরা এমন একটি ব্যবস্থার মধ্যে আছি, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না, যা রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কখনোই এমন হওয়ার কথা নয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং প্রায় আড়াই হাজারের মতো অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সবাই অবগত। এই শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, এ কথা শুরু থেকেই বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বলা হবে। 

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমত, সিলেবাস যুগোপযোগী করতে হবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। ল্যাবগুলোকে কার্যকর করতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এমন বিষয়গুলো পড়াতে হবে, যেগুলো থেকে পাস করার পর দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু নির্দেশ দিলেই তারা ক্লাসে ফিরে আসবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসার জন্য উৎসাহ বা প্রণোদনা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

ইংরেজি ও আইসিটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে অনেক কলেজে শিক্ষক ও ল্যাবের অভাব রয়েছে। আমরা এসব কলেজ চিহ্নিত করার কাজ করছি। প্রয়োজনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলোতে কম্পিউটার সরবরাহ করবে, যেখানে ন্যূনতম ল্যাব সুবিধাও নেই। কলেজ মনিটরিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং অডিট চালুর বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৩০০টি জাতীয় পরীক্ষাকেন্দ্র (ন্যাশনাল এক্সাম সেন্টার) স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ময়মনসিংহ নগরীর বাড়েরা এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। আঞ্চলিক কেন্দ্র চালুর ফলে অধিভুক্ত কলেজগুলোর ফি আদায় ও সার্টিফিকেট প্রদান, খাতা বণ্টনসহ শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আসবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আযম, আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, আনন্দ মোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শাকির হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।