নকআউটে গোলের রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
নকআউটে গোলের রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট মানেই এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জোড়া গোল করে শুধু ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে জেতাননি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের নকআউট পর্যায়ের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক।

Advertisement

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এমবাপ্পের গোল আসে ৪৫ ও ৭৪ মিনিটে। মাঝে ৫৩ মিনিটে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এই জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ফ্রান্স, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জার্মানিকে বিদায় করা প্যারাগুয়ে।

প্রথম গোলটি ছিল এমবাপ্পের স্বভাবসুলভ বিস্ফোরণ। বক্সের বাঁ দিক থেকে জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। সেই গোলেই বিশ্বকাপ নকআউট পর্যায়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯। লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওর ৮ গোল পেছনে ফেলে এককভাবে সবার ওপরে উঠে যান তিনি।

গোল করার পর সরাসরি দৌড়ে যান দিদিয়ের দেশমের কাছে। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি ফ্রান্স কোচ। সুইডেন ম্যাচেই ডাগআউটে ফেরেন তিনি। এমবাপ্পের উদ্‌যাপন তাই শুধু গোলের আনন্দ ছিল না, কোচের প্রতি দলের সমর্থনেরও প্রতীক।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। শুরুতেই বারকোলা গোল করে ব্যবধান বাড়ান। গোলটির নেপথ্যে ছিলেন মাইকেল ওলিসে। এরপর ৭৪ মিনিটে আবার ওলিসের পাস, আবার এমবাপ্পের ফিনিশিং। ডান দিক থেকে দৌড়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান ফ্রান্স অধিনায়ক।

এই জোড়া গোলে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ৬। লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুট দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে তিনি। তবে অ্যাসিস্ট বেশি থাকায় তিনি উপরে। এছাড়াও বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলের তালিকায় মেসির পেছনেই আছেন এমবাপ্পে। মেসির গোল ১৯, এমবাপ্পের ১৮।

এমবাপ্পের পরিসংখ্যান আরও বিস্ময়কর, কারণ তিনি মাত্র ১৮ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেই ১৮ গোল করেছেন। অন্যদিকে মেসি ১৯ গোল করেছেন অনেক দীর্ঘ বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে। বয়স ২৭ হওয়ায় এমবাপ্পের সামনে রেকর্ডটি শুধু স্পর্শ নয়, অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও আছে।

তবে এমবাপ্পে ব্যক্তিগত রেকর্ডকে সামনে আনতে চান না। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি সচেতন, কিন্তু বিষয়টি শুধু তার নয়। পুরো দল জানে কী করতে হবে। তার চোখ এখন ফ্রান্সকে আরও এগিয়ে নেওয়ার দিকে।

ফ্রান্সের জন্য সুইডেন ম্যাচটি ছিল আধিপত্যের প্রদর্শনী। প্রচণ্ড গরম, আর্দ্রতা ও খারাপ বায়ুমানের মধ্যেও দেশমের দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রথমার্ধেই একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তারা। এমবাপ্পের শট পোস্টে লাগে, ওলিসের অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টাও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

ওলিসে এই ম্যাচে আলাদা করে নজর কাড়েন। বারকোলার গোলের পাস তার, এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলের পাসও তার। চলতি বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্ট এখন ৫টি বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস হ্যাসলারের পর পুরুষদের বিশ্বকাপে এক আসরে এত অ্যাসিস্ট আর কেউ করতে পারেননি বলেও দাবি করা হচ্ছে।

বারকোলা ম্যাচ শেষে ওলিসেকে ‘জিনিয়াস’ বলেছেন। তার মতে, ওলিসে মাঠে সবকিছু করেন, রক্ষণে পরিশ্রম করেন, বল পায়ে বিপদ তৈরি করেন, দুর্দান্ত পাস দেন। সুইডেন ম্যাচে সেই কথার প্রমাণই মিলেছে।

ফ্রান্সের জয়টি ঐতিহাসিক দিক থেকেও বড়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারানোর পর নকআউট পর্যায়ে এটিই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় জয়। অর্থাৎ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ নকআউটে এমন ব্যবধানে জিতল তারা।

এখন সামনে প্যারাগুয়ে। জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় করা দলটি ফ্রান্সের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। তবে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্স যে বার্তা দিয়েছে, তা পরিষ্কার। এমবাপ্পে রেকর্ড ভাঙছেন, ওলিস জাদু দেখাচ্ছেন, আর দেশমের দল আবারও ফাইনালের পথে বড় দাবিদার হয়ে উঠছে।