আজীবন মুনাফার প্রতিশ্রুতি

৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট

৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

কক্সবাজারের ইনানীতে ৬৫ বিঘা জমির ওপর পাঁচতারকা হোটেল ও লাক্সারি ভিলা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেয়ার বিক্রি করছে ছুটি গ্রুপ। গ্রাহকদের বলা হয়, ‘ছুটি বিচ রিসোর্ট’ নামের এই প্রকল্পে শেয়ার কিনলেই মিলবে মাসিক নিশ্চিত মুনাফা। অথচ বাস্তবে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির জমির পরিমাণ মাত্র ৩ দশমিক ৭২ বিঘা।

Advertisement

মূল ছুটি গ্রুপ থেকে ভাগ হয়ে যাওয়া আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘ছুটি কক্সবাজার লিমিটেড’। কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে ‘ছুটি রিসোর্ট কক্সবাজার’ প্রকল্পে ৭ দশমিক ৬৫ বিঘা জমিতে হোটেল তৈরির প্রতিশ্রুতিতে শেয়ার বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ তাদের কেনা জমির পরিমাণ মাত্র ৪ দশমিক ১৬ বিঘা।

সম্ভাব্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপনে শেয়ার কিনলেই আজীবন মালিকানা, মাসিক নিশ্চিত মুনাফা এবং বছরে নির্দিষ্ট দিনে বিনামূল্যে থাকার সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে এই বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে কোনো অনুমোদন বা আইপিও দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এভাবেই হোটেল ও রিসোর্টের এক রুম বিক্রি করছে বহু বিনিয়োগকারীর কাছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহনেওয়াজ করিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, দেশে হোটেল-রিসোর্ট বা অনুরূপ প্রকল্পের নামে জনসাধারণের কাছ থেকে অননুমোদিতভাবে অর্থ সংগ্রহের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিদ্যমান রিয়েল এস্টেট আইনের বাইরে থাকা এই খাতটি কার্যত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি না হয়েও প্রতিষ্ঠানগুলো আকর্ষণীয় প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগ নিচ্ছে, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রকল্পের জমির মালিকানা বা আইনগত ভিত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, এটি মূলত একটি সুপরিকল্পিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ধাঁচের আবাসন প্রতারণা। যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে নতুন গ্রাহক তৈরিতে বেশি জোর দেওয়া হয়। অবিলম্বে এদের নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও দীর্ঘ আইনি জটিলতার মুখে পড়বেন।

ছুটি গ্রুপের আরও যত প্রকল্প

২০১২ সালে কার্যক্রম শুরু করে ছুটি গ্রুপ। ওই বছর গাজীপুরের জয়দেবপুরের আমতলীতে ৫৪ বিঘা জমিতে ‘ছুটি রিসোর্ট, গাজীপুর’ নামের প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রা করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর একে একে যুক্ত হয় আরও নানা প্রকল্প।

২০১৭ সালে চালু হয় ‘ছুটি রিসোর্ট, পূর্বাচল’। ২০২০ সালে ঢাকার পূর্বাচলে ‘ছুটি হারমনি’ প্রকল্প শুরু হয়। ২০২৩ সালে শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জে ‘সালতানাত টি-রিসোর্ট’ এবং ঢাকা-খুলনা হাইওয়ের কাশিয়ানীতে ‘সালতানাত হাইওয়ে ভিলেজ’ যুক্ত হয়। ২০২৪ সালে গাজীপুরের পূবাইলে শুরু হয় ‘ছুটি অরণ্যবাস রিসোর্ট’।

ছুটি গ্রুপের অন্যান্য প্রকল্প।
ছুটি গ্রুপের অন্যান্য প্রকল্প।

২০২৫ সাল থেকে গাজীপুরের পূবাইলে ‘ছুটি সিগনেচার’ ও কক্সবাজারের ইনানীতে ‘ছুটি বিচ রিসোর্ট’ নামে শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের শমশেরনগরে ‘ছুটি ফরেস্ট ঈগল রিসোর্ট’ ও গাজীপুরের রাজাবাড়ীতে ‘ছুটি ভ্যালি’ নামে আরও দুটি প্রকল্প আসছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কাগজপত্র দেখতে চাইলে দ্রুত বুকিংয়ের পরামর্শ

ক্রেতা পরিচয়ে ‘ছুটি বিচ রিসোর্ট’ প্রকল্পের শেয়ার সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে সামনে আসে বেশ কিছু নতুন তথ্য। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই প্রকল্পে ৬৫ বিঘা জমির ওপর একটি ছয়তলা পাঁচতারকা হোটেল ও ২৭টি লাক্সারি ভিলা নির্মিত হবে। পাঁচতারকা হোটেলে মোট ১১ হাজার শেয়ারের মধ্যে পাঁচ হাজার ৫০০টি কোম্পানির জন্য রেখে বাকি পাঁচ হাজার ৫০০টি বিক্রি করা হচ্ছে। লাক্সারি ভিলায় বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৩৭৫টি শেয়ার। ভিলার প্রতি শেয়ার মূল্য ১০ লাখ এবং হোটেলের প্রতি শেয়ার মূল্য ছয় লাখ টাকা।

বিনিময়ে বিনিয়োগকারীরা কী পাবেন জানতে চাইলে ছুটি গ্রুপের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) তামান্না শারমিন খান বলেন, ‘আজীবন বছরে দুই রাত, তিন দিন ফ্রি অবকাশযাপন। জমি ও রিসোর্টের মালিকানার শেয়ার হিসেবে থাকবে ভিলা থেকে ৮২ বর্গফুট এবং হোটেল থেকে ২৫ বর্গফুট সাফ-কবলা রেজিস্ট্রেশন। বিনিয়োগের ওপর আজীবন শেয়ারপ্রতি এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক মুনাফা পাবেন। সব ছুটি রিসোর্টে আজীবন ৫০ শতাংশ ছাড়ে থাকার সুযোগ।’

আইনি কাগজপত্র দেখতে চাইলে ভবিষ্যতে শেয়ারের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধির প্রলোভন এবং এককালীন পরিশোধে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড়ের কথা বলে দ্রুত বুকিংয়ের পরামর্শ দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা।

এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উখিয়া উপজেলার ইনানী মৌজার ১ নম্বর জালিয়া পালং ইউনিয়নে ‘ছুটি বিচ রিসোর্ট লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের নামে কেনা জমির পরিমাণ মাত্র ১ দশমিক ২২৮৩ একর, অর্থাৎ প্রায় ৩ দশমিক ৭২ বিঘা। গত ৬ জানুয়ারি সম্পাদিত এই দলিলে জমির মালিক মো. সাইফুজ্জামানের পক্ষে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিপ্রাপ্ত নূরে নাজনীন বেগম সই করেন। এই একটি দলিল ছাড়া ওই মৌজায় কেনা আর কোনো জমির দলিল দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

ছুটি গ্রুপ বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে ভিলা এবং ২০২৯ সালের মধ্যে পাঁচতারকা হোটেল হস্তান্তর করা হবে। অথচ এখন পর্যন্ত ভিলার নির্মাণকাজ দুই শতাংশও সম্পন্ন হয়নি। আর পাঁচতারকা হোটেলের নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি এখনও। অর্থাৎ, কাজ শুরুর আগেই হস্তান্তরের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে।

অনুমোদনপত্রে গরমিল

হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণের অনুমোদনের প্রমাণ চাইলে একটি অনুমতিপত্র দেখায় ছুটি গ্রুপ। ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বরের ওই চিঠিতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন সভাপতি ও তখনকার জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের স্বাক্ষর ছিল।

সেখানে এস এম জসিম উদ্দিন চৌধুরী, সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ও আব্দুল জব্বার গংয়ের আবেদনের কথা বলা আছে। অনুমতিপত্রে ১৪ একর বা প্রায় ৪২ বিঘা জমিতে হোটেল, ভিলা, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে ছয়তলা হোটেল ভবনের কথা থাকলেও পাঁচতারকা হোটেলের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ ছুটি গ্রুপ পাঁচতারকা হোটেলের নামে শেয়ার বিক্রি করছে।

হোটেল নির্মাণের অনুমোদনপত্র (পৃষ্ঠা-১)।
হোটেল নির্মাণের অনুমোদনপত্র (পৃষ্ঠা-১)।

হোটেল নির্মাণের অনুমোদনপত্র (পৃষ্ঠা-২)।
হোটেল নির্মাণের অনুমোদনপত্র (পৃষ্ঠা-২)।

প্রশাসনের অনুমতিপত্রে যাদের আবেদনের কথা বলা হয়েছে, ছুটি গ্রুপের কোম্পানি মেমোরেন্ডামে ওই তিনজনের নাম নেই। তারা এই প্রতিষ্ঠানের মালিক বা শেয়ারহোল্ডার নন। তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে ছুটি গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন ফরহাদ জানান, তারা জমির মূল মালিক। তবে ছুটি গ্রুপের সঙ্গে তাদের আসল সম্পর্ক কী, সেই প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

জমির গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওখানে ৬৫ বিঘার ওপর পাঁচতারকা মানের হোটেল ও ভিলার কাজ সম্পন্ন করব। এখন পর্যন্ত আমাদের ৪৫ বিঘা কেনা হয়েছে, বাকিটা বায়না করা আছে।

তবে ছুটি গ্রুপের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) তামান্না শারমিন খান বলেন, ছুটির ওয়েবসাইটে ও ব্রোশিয়ারে যাদের নাম আছে তারা ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে আছে। প্রফিট শেয়ারের একাংশ ডিরেক্টররা তো ব্রোশিয়ারে বা ওয়েবসাইটে থাকবে না।

একই লোগো দুই প্রতিষ্ঠানের

এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে আসে, হিসাবের গরমিলের জেরে ছুটি গ্রুপ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। তবে দুই প্রতিষ্ঠানই একই লোগো ব্যবহার করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

একটি গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদে আছেন মোস্তফা মাহমুদ আরিফি, আলমগীর ফেরদৌস, মোস্তফা কামাল এবং সামসুল ইসলাম মাসুদ। প্রচারপত্রে এই চারজনকে কো-ফাউন্ডার বলা হলেও ‘ছুটি রিসোর্ট লিমিটেড’-এর ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে আলমগীর ফেরদৌসের নামে, ঠিকানা গাজীপুর।

ছুটি গ্রুপের চার ফাউন্ডার।
ছুটি গ্রুপের চার ফাউন্ডার।

অপর গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ তারিক মাহমুদ। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ছুটি কক্সবাজার লিমিটেড’। স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বর্তমান ঠিকানা সাভারের ব্যাংক কলোনি। তাদের বিজ্ঞাপনে দেখানো প্রকল্পগুলো হলো ২০১২ সালের ‘ছুটি রিসোর্ট গাজীপুর’, ২০১৭ সালের ‘ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচল’, ২০২২ সালের ‘ছুটি রিসোর্ট কক্সবাজার’ ও ‘ছুটি ভিলা কুয়াকাটা’ এবং ২০২৪ সালের ‘ছুটি বে কক্সবাজার’।

ছুটি কক্সবাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এমডি।
ছুটি কক্সবাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এমডি।

‘ছুটি রিসোর্ট গাজীপুর’ ও ‘ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচল’; এই দুই প্রকল্পকে উভয় গ্রুপই নিজেদের বলে দাবি করছে।

ছুটি গ্রুপ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে ছুটি কক্সবাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ তারিক মাহমুদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা দুটি টিমে কাজ করছি। একসঙ্গেও আছি আবার আলাদাভাবেও কাজ করছি’।

ছুটি রিসোর্ট কক্সবাজার

ছুটি কক্সবাজার লিমিটেড তাদের ছুটি রিসোর্ট কক্সবাজার প্রকল্পে ৭ দশমিক ৬৫ বিঘা জমিতে হোটেল করার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পে মোট তিন হাজার ৫০০টি শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি শেয়ারের দাম ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৮ সালে প্রকল্পটি হস্তান্তরের কথা বলা হচ্ছে।

৭ দশমিক ৬৫ বিঘা জমির কথা বলা হলেও এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফের বড়ডেইল মৌজায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ তারিক মাহমুদের নামে কেনা জমির পরিমাণ মাত্র ৪ দশমিক ১৬ বিঘা।

ছুটি রিসোর্ট কক্সবাজারের জমির মিউটেশন।
ছুটি রিসোর্ট কক্সবাজারের জমির মিউটেশন।

৭ দশমিক ৬৫ বিঘার দাবির বিপরীতে মাত্র ৪ দশমিক ১৬ বিঘা জমি কিনে শেয়ার বিক্রির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মুহাম্মদ তারিক মাহমুদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি এখন ঢাকার বাইরে আছি। এ বিষয়ে ফোনে কথা বলতে চাচ্ছি না। আমাদের ঢাকা অফিসে আসেন, আমরা বসে চা খাই, কফি খাই। সামনাসামনি বসেন ভালো হবে।’

চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপের পর এ বিষয়ে জানতে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি উত্তর দেননি।

ছুটি বিচ রিসোর্ট

ছুটি বিচ রিসোর্টে ৬৫ বিঘা জমি না কিনেই শেয়ার বিক্রির বিষয়ে কথা হয় ছুটি গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন ফরহাদের সঙ্গে। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এই রিসোর্টের জন্য আমাদের প্রস্তাবিত জমি ১০০ বিঘা। আমরা সেই পরিমাণ জমি কিনব, এ নিয়ে কথা চলছে। এখন আমাদের পরিকল্পনা হলো ৬৫ বিঘার ওপর পাঁচতারকা হোটেল ও ভিলার কাজ শেষ করা। আপাতত আমাদের ৪৫ বিঘা জমি কেনা আছে। বাকি ২০ বিঘার বায়না করা আছে।’

ছুটি বিচ রিসোর্টের দলিল (পৃষ্ঠা-১)।
ছুটি বিচ রিসোর্টের দলিল (পৃষ্ঠা-১)।

ছুটি বিচ রিসোর্টের দলিল (পৃষ্ঠা-২)।
ছুটি বিচ রিসোর্টের দলিল (পৃষ্ঠা-২)।

ছুটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর ফেরদৌস এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গাজীপুরের পর আমরা পূর্বাচলে রিসোর্টের কাজ করি। কক্সবাজারে কাজ শুরুর পর আমাদের কিছু পার্টনার আলাদা হয়ে যায়। এখন তাদের সঙ্গে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই’।

ছুটি বিচ রিসোর্টে ৬৫ বিঘা জমি কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে কিছু জমি আমরা কিনেছি, কিছু বায়না আছে। আমরা তো খুবই ছোট কোম্পানি, একবারে এত জমি কেনা সম্ভব না।’

জমিতে গরমিল রেখে ছুটি বিচ রিসোর্ট লিমিটেড নামে হোটেল ও ভিলার শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে। এশিয়া পোস্টের এমন প্রশ্নে ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ আরিফি বলেন, ‘আপনার এই তথ্য সঠিক নয়। ওখানে আমাদের ৬৫ বিঘার বেশি জমি কেনা আছে’।

বিভ্রান্তিতে বিনিয়োগকারীরা

ফেসবুকে ছুটি গ্রুপের বিজ্ঞাপন দেখে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছিলেন আফজাল হোসেন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘টাকা ব্যাংকে না রেখে ভালো কোথাও বিনিয়োগ করতে চাই। এ ভাবনা থেকে কোথায় বিনিয়োগ করা যায় এ জন্য ফেসবুকে সার্চ করি। চোখে পড়ে কক্সবাজারে ছুটি গ্রুপের হোটেল-রিসোর্টের বিজ্ঞাপন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি তাদের গ্রুপ দুটি। উভয়ের বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে তাদের প্রজেক্টের বিষয়ে জানতে চাইলে দেখি এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে বলছে। পরে এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।’

এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনুমোদনহীন এই ‘ফ্র্যাকশনাল ওনারশিপ’ মডেল মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা ডেসটিনির মতো প্রতারণামূলক স্কিমে পরিণত হতে পারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।