নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় যুবদল, শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় যারা

শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। এ নিয়ে নেতাকর্মী ও পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, এই দুই শীর্ষ পদে একাধিক সাবেক যুব ও ছাত্রনেতার নাম সামনে আসছে।
চলতি বছরেই জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যে এটি স্পষ্ট। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলেরও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে যুবদলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরতে হাইকমান্ড ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা। কেউ কেউ দলীয় সভা-সেমিনারে অনুসারীদের নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করছেন।
২০২৪ সালে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে প্রায় ২২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি। এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
যুবদলের একাধিক নেতার অভিযোগ, অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। তবে বর্তমান সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা ইতোমধ্যেই তারেক রহমানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে যেকোনো সময় কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দলের নীতিনির্ধারকরা এখনো চূড়ান্ত করেননি।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবির পল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু এবং যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল।
রেজাউল কবির পল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই দায়িত্ব দেবে। গত ১৫-১৬ বছর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছি। এখন সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। পাশাপাশি দল পুনর্গঠনেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
গোলাম মাওলা শাহীন বলেন, ‘আমরা তৃণমূল কর্মী হিসেবে দলের জন্য কাজ করেছি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সেটিই গ্রহণ করবো।’
রুহুল আমিন আকিল বলেন, ‘দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নেব।’
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, উত্তরের সভাপতি শরিফউদ্দিন জুয়েল, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল এবং যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন।
ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু শীর্ষ দুই পদের যেকোনো একটি পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
খন্দকার এনামুল হক এনাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নতুন কমিটির আলোচনা শুরু হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৎপরতা ও প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সেটিই মেনে নেব।’
আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে আমি ৪০টি মামলার আসামি হয়েছি। দুইবার কারাবরণ করেছি। ১/১১-এর সময়ও রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে দায়িত্ব দেবে।’
যা বলছেন বিএনপি নেতারা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান। সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুবদলের নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন সরকার পরিচালনা করছে, তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বেড়েছে। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে এবং সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা স্থান পাবেন।’





