ডাকের গাড়িতে বিলির ব্যবসা, আমের বদলে চলছে ই-কমার্সের পার্সেল

শাওন সোলায়মানমোস্তাফিজ রকি
ডাকের গাড়িতে বিলির ব্যবসা, আমের বদলে চলছে ই-কমার্সের পার্সেল
ডাক বিভাগের ভবন ও বিলির গাড়ি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মৌসুমি ফল পরিবহনের জন্য পাওয়া ডাক অধিদপ্তরের ১২টি মেইল ভ্যানের ১১টিই চলে গেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিলির হাতে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) পক্ষ থেকে দেওয়া হয় এসব গাড়ি। তবে সেগুলো দিয়ে এখন আম বা অন্যান্য মৌসুমি ফলের বদলে দারাজসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পার্সেল পরিবহন করছে বিলি।

Advertisement

ডাক অধিদপ্তরের ডিঅ্যান্ডএম শাখা থেকে গত ২১ মে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয়ে ১২টি মেইল ভ্যান বরাদ্দ দেওয়া হয়।

দেড় টন, ৩ টন ও ৫ টন ধারণক্ষমতার এই গাড়িগুলোতে স্বাক্ষর করেন চলতি দায়িত্বে থাকা পরিচালক (পরিকল্পনা) হুসেন সৈয়দ গওহর।

ডাক অধিদপ্তরের অফিস আদেশ।
ডাক অধিদপ্তরের অফিস আদেশ।

বরাদ্দ অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগে ৭টি (৫ টনের ৪টি ও ৩ টনের ৩টি) এবং খুলনা বিভাগে ৪টি (৫ টন ও ৩ টনের দুটি করে) গাড়ি দেওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণ ছাড়া বাকি দুটি বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গাড়ি গ্রহণ করা হয়নি। যদিও গাড়িগুলো ঠিকই চলছে, তবে বিলির চালক ও জনবল দিয়ে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডাক অধিদপ্তরের মেইল প্রসেসিং সেন্টার (এমপিসি)। গত ২০ জুন বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সেখান থেকে তিন টনের একটি মেইল ভ্যান বের করেন বিলির একজন চালক। গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো অ-১১-৬৪০৪।

অফিস আদেশ অনুযায়ী গাড়িটি থাকার কথা ছিল খুলনা বিভাগীয় ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের তত্ত্বাবধানে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে, সেদিন আরও অন্তত তিনটি গাড়ি বিলির চালকরা এমপিসি থেকে বের করেছেন।

পরদিন ২১ জুন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিন টনের আরেকটি মেইল ভ্যান বের হয়। গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো-অ-১১-৬৪০৮। ভ্যানের গায়ে লাল রঙের ওপর ডাক অধিদপ্তর ও ইউপিইউর লোগো, আর বড় হরফে লেখা ‘রাষ্ট্রীয় ডাক’।

গাড়িটি অনুসরণ করে এশিয়া পোস্ট। একপর্যায়ে এটি গিয়ে থামে তেজগাঁওয়ে ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস দারাজের ওয়্যারহাউসের সামনে। অথচ অফিস আদেশ অনুযায়ী, এটি থাকার কথা রাজশাহী বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের তত্ত্বাবধানে।

সৌরভ কুমার সরকারের আইডি কার্ড।
সৌরভ কুমার সরকারের আইডি কার্ড।

গাড়ি থামার পর জানা যায়, সেটি চালাচ্ছিলেন বিলির কর্মী আরিফুর রহমান। পাশের আসনে ছিলেন বিলির আরেক কর্মী সৌরভ কুমার সরকার। উভয়ের আইডি কার্ডে ডাক বিভাগের লোগো।

সৌরভ কুমার সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এটা ডাক বিভাগের ই-কুরিয়ার সার্ভিস। রাষ্ট্রীয় পরিবহন থেকে গাড়িটি আমাদের দেওয়া হয়েছে। এই গাড়ি দারাজের মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে। রাজশাহী যাওয়ার গাড়ি আলাদা, রাতে আসে।’

এমপিসি থেকে গাড়ি বের করার পক্ষে কোনো গেট পাস দেখাতে পারেননি বিলির কর্মীরা। তেজগাঁও এমপিসিতে গাড়ির কোনো লগবুকও পাওয়া যায়নি।

লুকোচুরি কর্মকর্তাদের

খুলনা বিভাগীয় ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মিরাজুল হক তার অনুকূলে বরাদ্দ চারটি গাড়ির একটিও গ্রহণ করেননি। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গাড়িগুলো আমি গ্রহণ করিনি। যে গাড়ি আমার কাছে নেই সেটি কোথায় চলাচল করছে তা আমার জানা নেই।’

রাজশাহী বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল রাকিব বিশ্বাসের বক্তব্যে অবশ্য ভিন্নতা দেখা গেছে। প্রথমে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এজেন্ট হিসেবে বিলি মৌসুমি ফল পরিবহনে কাজ করছে। আমার গাড়ি প্রয়োজন হলে ওদের কাছ থেকে নেই। ওরা যেহেতু ডাক বিভাগকে ফি দিয়ে চালাচ্ছে, তাই ওরা নেয়।’

গাড়ি বুঝে পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবগুলো দেয়নি। প্রয়োজন হলে দেবে।’

কয়টি বুঝে পেয়েছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা অনেক জটিল প্রশ্ন।’ এরপর ‘স্যার ফোন দিয়েছে’ জানিয়ে কল কেটে দেন। এরপর আর ফোনে পাওয়া যায়নি তাকে।

গত ২৩ জুন রাজশাহীর ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয়ে যান এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদক। তখন একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২১ মের আদেশের ৭টি গাড়ির একটিও তারা বুঝে পাননি। সর্বশেষ গত ১৫ জুন তারা একটি গাড়ি গ্রহণ করেন। তবে সেটি আগের সাত গাড়ির তালিকাভুক্ত নয়।

পরে আবার যোগাযোগ করা হলে রাকিব বিশ্বাস দাবি করেন ৪টি গাড়ি বুঝে পেয়েছেন। একটি নিজের তত্ত্বাবধানে, একটি জিপিওতে এবং বাকি দুটি অধিদপ্তরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধান বলছে, বরাদ্দকৃত সাত গাড়ির একটিও এই কার্যালয়ে নেই।

বিলিকে গাড়ি দেওয়ার বিষয়ে রাকিব বিশ্বাস বলেন, ‘কিছুদিন তারা (বিলি) আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে।’

নথি তৈরিতে কারসাজি

এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধান বলছে, গাড়িগুলো বিলিকে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে নথি তৈরি করা হয়েছে। কাগজে-কলমে ইউনিটের কাছে হস্তান্তর দেখানো হলেও সেগুলো কখনো ওই ইউনিটে পৌঁছায়নি, বরং চলে গেছে বিলির কাছে।

আদেশে স্বাক্ষরকারী ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক হুসেন সৈয়দ গওহর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ইউনিটগুলোকে গাড়ি দেওয়ার আদেশে স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু তারা গাড়ি বুঝে নেয়নি। যতটুকু শুনেছি হারুনুর রশীদ, জাকির হাসান নূর, খান হাসান মোহাম্মদ ইকবাল মাসুদ অনানুষ্ঠানিকভাবে গাড়িগুলো বিলিকে দিয়েছেন। এটা অনৈতিক।’

তিন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশীদ (হিসাব ও সংস্থাপন), জাকির হাসান নূর (ডাক সার্ভিস) এবং খান হাসান মোহাম্মদ ইকবাল মাসুদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজশাহী ও খুলনার দুই বিভাগীয় পোস্টমাস্টার জেনারেলকে পুরোনো তারিখ দেখিয়ে গাড়ি গ্রহণের নথি তৈরিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে জাকির হাসান নূরের বিরুদ্ধে।

এশিয়া পোস্টের কাছে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুনুর রশীদ ও খান হাসান মোহাম্মদ ইকবাল মাসুদ। অফিসে গিয়ে ও মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করেও জাকির হাসান নূরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিধি উপেক্ষা করে বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা

বিলি বা এর মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান ক্লিকএক্সের সঙ্গে ডাক বিভাগের গাড়ি ব্যবহার বিষয়ক কোনো চুক্তি নেই। সরকারি বিধি অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্ত্রণালয় রাজস্ব আদায়মূলক কার্যক্রমে যেতে পারে না। তারপরও ডাক অধিদপ্তরকে ভাড়া দিয়ে গাড়িগুলো ব্যবহার করছে বিলি।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘অর্থ বিভাগের অনুমোদন ছাড়া রাজস্ব নেওয়া যায় না। বিলির সঙ্গে আমাদের এ বিষয়ক কোনো চুক্তিও নেই। তবে বিলি গাড়িগুলো চালাচ্ছে পরীক্ষামূলকভাবে, বাল্কমেইল (একসঙ্গে অনেক পার্সেল) পরিবহনের জন্য। ডাক বিভাগে ‘লেটার রাইটার’ বলে একটি ব্যবস্থা আছে। তার আওতায় চলছে।’

লেটার রাইটার সংক্রান্ত বিধিমালা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ব্যবস্থা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে প্রযোজ্য। কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এর সুবিধা নিতে পারে না। উপরন্তু, লেটার রাইটাররা কখনো ডাকের কোনো সম্পদ ব্যবহার করতে পারেন না। গাড়ি প্রয়োজন হলে নিজ ব্যবস্থায় চালাতে হয়। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

সক্ষমতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি

অফিস আদেশে গাড়িগুলো কেবল মৌসুমি ফল পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বিলির কর্মীরা জানান, গাড়িগুলো দারাজসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পার্সেল পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে। দারাজের একটি সূত্র এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছে, গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে বিলি বা ডাক অধিদপ্তর; কাউকেই মৌসুমি ফল পরিবহন করতে দেয় না দারাজ।

ক্লিকএক্সের অন্যতম অংশীদার ও বিনিয়োগকারী রাফেল কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমের মৌসুমে আম (মৌসুমি ফল) পরিবহনের জন্য দেওয়া হয়েছিল। পোস্ট অফিস আমের ব্যবসা করছে। ওরা যেহেতু কালেকশনসহ বিভিন্ন বিষয় সামাল দিতে পারে না, তাই আমাদের দিয়েছিল। তবে গাড়িগুলো ফেরত দেওয়া হবে। তারা বোধহয় ফেরত চেয়েছেও।’

উল্লেখ্য, এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানের বিষয়টি জানার পর ডাক অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে বিলির কাছ থেকে গাড়ি ফেরত চায়।

ডাক বিভাগের সক্ষমতার অভাব দেখিয়ে বিলিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলছেন, এটি অসত্য দাবি। মৌসুমি ফল বা পার্সেল পরিবহন ডাক অধিদপ্তরের নিজস্ব কাজ। যদি সক্ষমতার প্রশ্ন ওঠে, তাহলে দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বাছাই করতে হবে। অনানুষ্ঠানিকভাবে বিলিকে সরকারি গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

বিলির কর্মীদের আইডি কার্ডে ডাকের লোগো ব্যবহারের বিষয়ে রাফেল কবির বলেন, ‘তমালরা (আগের অংশীদার) যখন চালু করেছিল তখন এটা যুক্ত করা হয়েছিল। আমি বলে দিয়েছি, আগামী মাস থেকে সংশোধন করা হবে।’

ডাক অধিদপ্তরের বক্তব্য

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘একটি কমিটি ছিল। কমিটি সুপারিশ করে কোন ইউনিটে কয়টা গাড়ি দেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে আমি অনুমোদন দেই। প্রস্তাব অনুযায়ী একটি তালিকা করা হয়। কিন্তু একটি বাদে কেউ গাড়িগুলো গ্রহণ করেনি। একটি গাড়ি রাজশাহী বিভাগে দেখানো আছে, বাকি ১১টি রাজধানীর জিপিও ক্যাম্পাসে থাকে। এগুলো থেকে কিছু গাড়ি মাঝে মাঝে পরীক্ষামূলকভাবে বাল্কমেইল পরিবহনে বের হতো (বিলি ব্যবহার করত)। তবে কোনো গাড়ি ফল পরিবহনের জন্য বের হয়নি। অথচ গাড়িগুলোকে শুধু ফল পরিবহনের জন্যই দেওয়া হয়েছিল। দেখা গেছে, আমাদের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ফল সেভাবে হয়নি, তাই ফল পরিবহন করা লাগেনি। ট্রেনসহ অন্যান্য পুরোনো মেইলেই ফল পরিবহন হয়েছে। কিন্তু গাড়িগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।’

বিলির কর্মীদের আইডি কার্ডে ডাক বিভাগের লোগো ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নজরে এসেছে। এমনটা করার কোনো সুযোগ নেই, এটা অনৈতিক। এতদিন এটি আমার নজরে আসেনি। আপনার কাছ থেকে জানার পর ডাক বিভাগের লোগো ব্যবহার না করতে বিলিকে সতর্ক করা হয়েছে। মৌখিকভাবে তাদের থামানো হয়েছে, এরপর লিখিতভাবে ব্যাখ্যা নেব। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাড়ি চলাকালে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে দায় কার? এশিয়া পোস্টের এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘এমন কিছু হলে আমরা দায় এড়াতে পারব না। তবে গাড়িগুলো কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি আরও আগে জানতে পারলে তখনই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। সবকিছু তো আমার একার পক্ষে জানা সম্ভব না।’

যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এই ঘটনাকে চরম জালিয়াতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘তদন্ত করে এই চরম জালিয়াতির জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার। এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছে। দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম এগুলো চরম আকার ধারণ করেছে; রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে; রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। এগুলোর যদি কিছু একটা ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে এখন যে অবস্থায় আছি, এর চেয়েও খারাপ অবস্থায় যাব।’