কুয়াকাটায় প্লট-হোটেল বিক্রির নামে সেঞ্চুরি গ্রুপের প্রতারণা

কুয়াকাটায় প্লট-হোটেল বিক্রির নামে সেঞ্চুরি গ্রুপের প্রতারণা
ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ‘সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউন’ প্রকল্পে ২০১৬ সালে জমির পুরো টাকা পরিশোধ করেন গ্রাহকরা। কিন্তু ১০ বছর পেরিয়ে ২০২৬ সালেও তাদের নির্দিষ্ট কোনো প্লট বুঝিয়ে দেয়নি সেঞ্চুরি গ্রুপ। উল্টো রেজিস্ট্রেশনের নামে সরকারি ফি’র চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া চুক্তির বাইরে ভিন্ন মৌজার জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দফায় দফায় নতুন করে অর্থ দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

Advertisement

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পর্যটন সম্ভাবনাকে পুঁজি করে প্লট ও হোটেলের মালিকানার স্বপ্ন দেখিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে এমন অভিনব প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে সেঞ্চুরি গ্রুপের মালিক এমজিআর নাসির মজুমদারের বিরুদ্ধে। চটকদার বিজ্ঞাপনে পরিকল্পিত আবাসন, হোটেলের মালিকানা শেয়ার ও থিম পার্কের প্রলোভন দেখিয়ে রীতিমতো ফাঁদে ফেলা হয় গ্রাহকদের।

কোম্পানির তিনটি মেগা প্রকল্প হলো; ‘সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউন’, ‘সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা’ এবং ‘সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক’। এর মধ্যে সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পার নির্মাণকাজ এগিয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্প এখনও মূলত কাগজ-কলম আর ডিজিটাল অ্যানিমেশনে সীমাবদ্ধ।

টাকা পরিশোধের পরও হয়রানি

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউনে কাঠাপ্রতি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫০ টাকা দরে ৫ কাঠার একটি প্লট বুকিং দেন গ্রাহকরা। এক বছরেরও বেশি সময় পর ২০১১ সালের মে মাসে কোম্পানি তাদের চুক্তিপত্র হস্তান্তর করে। চুক্তি অনুযায়ী, মাসিক ১১ হাজার ২৫ টাকা করে মোট ৭২টি কিস্তিতে ২০১৬ সালের জুনে প্লটের পুরো মূল্য বাবদ ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধ করেন গ্রাহকরা।

কিন্তু চুক্তির ফাঁদে ফেলে গ্রাহকদের সঙ্গে নানা কৌশলে প্রতারণা করছে সেঞ্চুরি গ্রুপ। তবে ভবিষ্যতে হয়রানির ভয়ে গ্রাহকরা নাম প্রকাশ করে অভিযোগ করতে সাহস পায় না। এমন একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে কথা হয় এশিয়া পোস্টের। তারা জানান, কিস্তি পরিশোধে মাঝে মাঝে সামান্য দেরি হলেই বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হয়। জরিমানার পরিমাণ কমাতে কোম্পানির কর্মকর্তাদের ঘুষও দিতে হয়।

এমন একজন ভুক্তভোগী এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, তার একটি কিস্তি দিতে দেরি হলে কাগজপত্র ঠিক রাখতে কোম্পানির কর্মকর্তাদের ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেন। তবে ঘুষ নেওয়ার পরও জরিমানা বাবদ ৩১ হাজার ১৬৩ টাকা আদায় করা হয়। এসব গ্রাহকের অভিযোগের বিস্তারিত এশিয়া পোস্টের হাতে রয়েছে।

উন্নয়ন ও রেজিস্ট্রির নামে গলাকাটা ফি

২০১৬ সালে প্লটের মূল টাকা পরিশোধ হলেও ভোগান্তি থামেনি গ্রাহকদের। ২০২১ সালের নভেম্বরে ডেভেলপমেন্ট চার্জ বাবদ ১৫ শতাংশ হিসেবে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭০ টাকা করে হাতিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর আসে রেজিস্ট্রেশনের পালা। ২০১৬ সালে পুরো টাকা পরিশোধ হলেও জমির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় আট বছর পর, ২০২৪ সালে। এ সময় রেজিস্ট্রেশন চার্জ বাবদ গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ লাখ ৩০ হাজার ৯১২ টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী জমির রেজিস্ট্রেশনের সরকারি ফি দলিলে উল্লেখিত মূল্যের সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এই প্লটের সরকারি ফি হওয়ার কথা ৩৭ হাজার ৮৭৫ টাকা। অর্থাৎ, সরকারি ফি’র চেয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা বেশি আদায় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জালিয়াতি, প্লট গায়েব

রেজিস্ট্রেশনের পর গ্রাহকদের সঙ্গে বড় ধরনের জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। দলিলে ও মূল চুক্তিতে উল্লেখ করা প্লট বাস্তবে দেখাতে পারেনি ভুক্তভোগীদের।

এমন জালিয়াতির শিকার হওয়া ব্যক্তিদের একজন পটুয়াখালীর সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউনে প্লট কেনা আনিসুর রহমান (ছদ্মনাম)। তাকে পছন্দমতো গঙ্গামতি মৌজার একটি সেক্টরের ১**৯ নম্বর প্লট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলিল অনুযায়ী প্লট দেখাতে পারেনি সেঞ্চুরি কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট প্লট আকারে কোনো জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি তাকে।

জমির দলিল
জমির দলিল

প্লট ক্রয়ের চুক্তিপত্র
প্লট ক্রয়ের চুক্তিপত্র

আনিসুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বৃদ্ধ বয়সটা কিছুটা নিশ্চিন্তে পার করার আশায় ২০১০ সালে আমরা তিনজন মিলে পাঁচ কাঠা করে মোট ১৫ কাঠা জমি বুকিং দিই। ২০১৬ সালে পুরো টাকা পরিশোধ করলেও রেজিস্ট্রেশন দিতে গড়িমসি শুরু করে সেঞ্চুরি গ্রুপ। পরে ২০২৪ সালে রেজিস্ট্রেশন দিলেও যে প্লটের বুকিং দিয়েছিলাম, তা তারা আজও বুঝিয়ে দিতে পারেনি। এখন ২০২৬ সালের জুন মাস হলেও আমাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং নানাভাবে এখনও টাকা দাবি করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্লটের কিছু ইন্সটলমেন্ট দিতে দেরি করায় প্রায় লাখ খানেক জরিমানা করা হয়। আর এই জরিমানা কমাতে সেঞ্চুরি গ্রুপের ডিজিএম তৌফিক সাহেব আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন।’

নতুন করে দফায় দফায় অর্থ দাবি

জমি বুঝিয়ে না দিলেও নতুন করে দফায় দফায় অর্থ দাবি করা হয় গ্রাহকদের কাছে। জমির নামজারির জন্য সেঞ্চুরি গ্রুপ এখন ৬০ হাজার টাকা করে দাবি করছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ কাঠা জমির নামজারিতে সরকারি ব্যয় মাত্র এক হাজার ১৩০ টাকা। এর পাশাপাশি প্লটের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নামে আরও দেড় লাখ টাকা করে দাবি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে আধুনিক নগরীর কোনো সুযোগ-সুবিধার চিহ্ন দেখা যায়নি। বিজ্ঞাপনে দেখানো পরিকল্পিত প্লট, রাস্তা বা নাগরিক সুবিধার বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রকল্প এলাকার বড় অংশই এখনও সাধারণ ধানিজমি হিসেবে পড়ে আছে।

সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল

কুয়াকাটায় ৫০ শতাংশ জমির ওপর সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা নির্মাণের কথা বলে শেয়ার বিক্রি করা হয়। শুরুতে ভবনটি ১৬ তলা করার ঘোষণা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হলেও ১৪ তলা নির্মাণের পর আর উচ্চতা বাড়ানো হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

৫০ শতাংশের কথা বলা হলেও বাস্তবে মাত্র ১৭ শতাংশ জমিতে নির্মাণ করা হয় হোটেল ভবন। বাকি ৩৩ শতাংশ জমিতে কার পার্কিং রাখার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রজেক্টের মোট পাঁচ হাজার শেয়ারের মধ্যে দুই হাজার ৫০০টি নিজেদের কাছে রেখে বাকি দুই হাজার ৫০০টি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কোম্পানির প্রতিনিধিদের দাবি, এরই মধ্যে এক হাজার ৯০০টি শেয়ার বিক্রি হয়ে গেছে।

২০১৬ সালে শেয়ারপ্রতি মূল্য ছিল এক লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় এক লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ২০২১-২২ সালে শেয়ারের মূল্য ধরা হয় তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের শুরুতে শেয়ারপ্রতি মূল্য সাত লাখ টাকা ধরা হলেও মে মাসে তা কমিয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বারবার পেছাচ্ছে হস্তান্তরের সময়

বর্তমানে সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা প্রকল্পের ১৪ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। অথচ প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রচারপত্রে ২০২১ সালে প্রজেক্ট হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছিল।

২০১৮ সালে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় বুকিং করা গ্রাহকদের চুক্তিপত্রে হস্তান্তরের সময় উল্লেখ করা হয় ২০২২ সাল। পরে প্রচারপত্র পরিবর্তন করে এটি ২০২৪ সাল করা হয়। কিন্তু এখন ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে এসেও প্রকল্প বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি গ্রাহকদের। কোনো সাবকবলা রেজিস্ট্রেশন বা দলিলও দেওয়া হয়নি তাদের।

সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেলের চুক্তিপত্র। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেলের চুক্তিপত্র। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবাসী বিনিয়োগকারী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘অবসরজীবনের সঞ্চয় ও কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে গোল্ড কোস্ট হোটেলের শেয়ার কিনেছিলাম। ২০২২ সালে হোটেলের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করে শেয়ার বুঝিয়ে দিয়ে লভ্যাংশ চালুর কথা ছিল। কিন্তু চার বছর পার হলেও হোটেলের নির্মাণকাজই শেষ হয়নি। লভ্যাংশ তো দূরের কথা, এখনো তারা আমাদের দলিলই দেয়নি।’

সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড

কুয়াকাটায় সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড হোটেল অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক নামের আরেকটি প্রকল্পের শেয়ার বিক্রি করছে সেঞ্চুরি গ্রুপ। ৮১ শতাংশ জমির ওপর ১৪ তলা হোটেল নির্মাণের কথা বলে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও হলেও বাস্তবে এর কাজ শুরুর কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। এর মোট ২৫ হাজার শেয়ারের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৫০০টি। বর্তমানে প্রতিটি শেয়ার সাত লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রজেক্ট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

দুই হোটেলের মারপ্যাঁচ

প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে আগে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বছরে পাঁচ রাত, ছয় দিন হোটেলে ফ্রি থাকার সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। বর্তমান প্রচারপত্র থেকে এই সুবিধা বাদ দেওয়া হয়েছে।

হোটেল কম্পাউন্ডের বাইরে থাকা ৩৩ শতাংশ কার পার্কিংয়ের জমির শেয়ার নিয়েও জটিলতা রয়েছে। এই জমির শেয়ার সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল ও সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড, অর্থাৎ দুটি প্রজেক্টেই বিক্রি করা হয়। পরে কৌশল বদলে দুই প্রজেক্টের সংযোগ ঘটিয়ে এক শেয়ারে দুই হোটেলের মালিকানার অফার দিয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

এতসব জটিলতার পরও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কোনো ষান্মাসিক বা বার্ষিক সাধারণ সভা করে না সেঞ্চুরি গ্রুপ। ব্যবসার প্রয়োজনীয় তথ্য বা আপডেট বিনিয়োগকারীদের জানানোর প্রয়োজন মনে করে না কর্তৃপক্ষ।

যা বলছেন ভুক্তভোগীরা

গ্রাহকরা বলছেন, চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে তারা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও প্রজেক্টের কাজ শেষ না হওয়া, দলিল না পাওয়া এবং একের পর এক সুবিধা কাটছাঁট করায় তারা এখন প্রতারিত বোধ করছেন। সেঞ্চুরি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও এসব বিষয়ে কোনো সদুত্তর মিলছে না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিনিয়োগকারী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ায় সেঞ্চুরির অফিসে গিয়ে জানাই, আইনের আশ্রয় নেব। তখন তারা সাফ জানিয়ে দেয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ডিড বাতিল হয়ে যাবে। তাতে আমও যাবে, ছালাও যাবে। তাই আইন-আদালত করিনি। এখন নাম প্রকাশ পেলে গোপনে তারা আমাদের ক্ষতি করতে পারে।’

সেঞ্চুরি গ্রুপের প্রকল্প বেআইনি

এ বিষয়ে কোম্পানি বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. সবুজ হোসাইন এশিয়া পোস্টকে বলেন, হোটেল-রিসোর্ট প্রজেক্টের নামে চৌহদ্দি বা জমি নির্দিষ্ট না করে ক্ষুদ্র আকারে ১০-২৫ বর্গফুট জমির শেয়ার বিক্রির সুযোগ নেই। এটি একটি প্রতারণা।

এ ছাড়াও তিনি বলেন, কোম্পানি আইন অনুযায়ী—কোনো কোম্পানিই বিএসইসির পূর্বানুমতি বা আইপিও/কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) অনুমোদন ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে তহবিল সংগ্রহ করতে বা শেয়ার বরাদ্দ দিতে পারে না। জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রির জন্য সেই কোম্পানিকে অবশ্যই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে।

সেঞ্চুরি গ্রুপের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে সেঞ্চুরি গ্রুপের ডিজিএম তৌফিক চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা।’

সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে সেঞ্চুরি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদারের মোবাইলে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে তিনি কল কেটে দেন। এরপর কয়েকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

পরে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি লেখেন, ‘আপনি যা বলছেন বা ভাবছেন আমি বা আমরা সে রকম খারাপ মানুষ না। আমি অসুস্থ, দোয়া করবেন মৃত্যুর আগে যেন মানুষের পাওনা বুঝিয়ে দিতে পারি।’