logo
Advertisement

‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে হবে’

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে হবে’
সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ-র মতো শক্তিশালী এবং পুরোপুরি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলেন মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

Advertisement

মাহবুব কবির মিলন বলেন, বর্তমানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় যখন নিজেরাই চাল বা গম আমদানি করে, তখন সেখানে কোনো সমস্যা থাকলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়। এই সংস্থাটিকে সরাসরি সংসদ বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অধীনে এনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। অন্যান্য দেশের মতো স্বাধীন না করলে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইনের ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানতে সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাধ্য থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। অনেক মন্ত্রণালয় বা সংস্থা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কোনো পরামর্শ বা নির্দেশ কানে নেয় না। কারণ তাদের গ্রেড ও ক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে। এই সংস্থাকে এমনভাবে ক্ষমতায়ন করতে হবে, যাতে তারা বড় বড় দপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে। শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়া কোনো সংস্থার পক্ষেই জনগণের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে এমন মানুষকে বসাতে হবে, যার মেরুদণ্ড শক্ত এবং মাথা কেনা যায় না। অনেক সময় সৎ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও মেরুদণ্ডহীনতার কারণে তারা চাপের মুখে নতি স্বীকার করেন। সৎ কিন্তু অথর্ব মানুষের চেয়ে এমন ব্যক্তি দরকার, যিনি বুলডোজারের মতো কাজ করে সিস্টেম পরিবর্তন করবেন। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে না পারলে নিরাপদ খাদ্যের আন্দোলন সফল করা কঠিন হবে।

সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব মনে করেন, জনকল্যাণের জন্য করা নিরাপদ খাদ্য আইন বা ভোক্তা অধিকার আইনের সংশোধনীগুলো বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। ফাইল বারবার হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা একটি সভ্য রাষ্ট্রে কাম্য নয়। এই ফাইল চালাচালির পেছনে এক ধরনের স্বার্থান্বেষী মহল কাজ করছে, যারা সংস্কার চায় না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে এই আইনগুলো অবিলম্বে কার্যকর করা রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকারের অংশ।