logo
Advertisement

লংমার্চ নয়, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসুন: রাশেদ খাঁন

লংমার্চ নয়, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসুন: রাশেদ খাঁন
ক্র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের বিষয়টি উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, সনদটি এখন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ফলে এটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার সময়ও বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ ছিল। বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল হলেও কোনো বিষয়ে তাদের ভিন্নমত থাকতে পারে। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য দলগুলোরও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল।

গণতন্ত্রে ভিন্নমতের জায়গা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের চর্চাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তাই কোনো দলের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিলে আলোচনা করেই তার সমাধান খোঁজা উচিত।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, কর্মসূচি হিসেবে লংমার্চ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা গেলে চলমান জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান।

তিনি জানতে চান, সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার কীভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন। পরে আরেক কমিশনার ওই তারিখ চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগে থেকেই সমন্বয় ও আলোচনা থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের একটি ঘটনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। সে সময় তার মা ছেলের মুক্তির জন্য বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিলেন।

তখন একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ থাকায় অনেক সাংবাদিক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেননি বলে জানান তিনি। তবে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন তাকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিল। এ জন্য সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাশেদ খান।

ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাংবাদিকদের কাজেরও প্রশংসা করেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, অপরাধ দমন ও জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সঠিক তথ্য দিতে ক্রাইম রিপোর্টাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।