logo

২০২৭ সালের কোন মাসে কত দিন ঐচ্ছিক ছুটি

২০২৭ সালের কোন মাসে কত দিন ঐচ্ছিক ছুটি
ছবি : এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে ঘোষিত সরকারি ছুটির পাশাপাশি রয়েছে ঐচ্ছিক ছুটিও। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন এ ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

তবে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হয়। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ঘোষিত সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করেও ঐচ্ছিক ছুটির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও পর্বের দিনগুলোয় ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্য সামাজিক উৎসব উপলক্ষেও ছুটি রয়েছে।

জেনে নিন কোন মাসে ঐচ্ছিক ছুটি কত দিন—

জানুয়ারি

এ মাসে ঐচ্ছিক ছুটি দুদিন। এর মধ্যে—১ জানুয়ারি (শুক্রবার) ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন এবং ৬ জানুয়ারি (বুধবার) পালিত হবে পবিত্র শবে মিরাজ। এ দিনও মুসলিমরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

ফেব্রুয়ারি

এ মাসে ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে তিন দিন। এর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) ভস্ম বুধবার উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি কাটাতে পারবেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সরস্বতী পূজা উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। তবে পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উৎসব মাঘী পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার)। তারাও এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি কাটাতে পারবেন।

মার্চ

এ মাসে আছে সাত দিনের ঐচ্ছিক ছুটি। এর মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব শিবরাত্রি ব্রত পালিত হবে ৬ মার্চ (শনিবার)। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরের তৃতীয় দিন মুসলিম চাকরিজীবীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি কাটানোর সুযোগ রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১০ মার্চ। সে হিসাবে ঈদের পরের তৃতীয় দিন ১৩ মার্চ (শনিবার)। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ২২ মার্চ (সোমবার) পালিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোলযাত্রা। এদিকে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা ২৫ মার্চ পুণ্য বৃহস্পতিবার উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এর পরের দুই দিনও ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে খ্রিষ্টানদের জন্য। কারণ, ২৬ মার্চ পুণ্য শুক্রবার ও ২৭ মার্চ পুণ্য শনিবার পালন করবেন তারা। তবে ২৮ মার্চ, রোববার ইস্টার সানডে উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। কাজেই বৃহস্পতি ও রোববার ঐচ্ছিক ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার মিলে এই ধর্মের চাকরিজীবীরা চার দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন।

এপ্রিল

এ মাসে সনাতন ধর্মাবলম্বী, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সামাজিক উৎসব ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকবে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীদের। এর মধ্যে ৪ এপ্রিল রোববার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এর আগের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় টানা তিন দিন ছুটির সুযোগ মিলবে। এদিকে বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর অনুরূপ সামাজিক উৎসব উপলক্ষে ১২ ও ১৫ এপ্রিল পার্বত্য চট্টগ্রাম ও এর বাইরে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত চাকরিজীবীরা ঐচ্ছিক ছুটি কাটাতে পারবেন। ১২ এপ্রিল (সোমবার) আর ১৫ এপ্রিলের (বৃহস্পতিবার) সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ থাকবে এ সময়। এদিকে ১৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যত্র সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য ঐচ্ছিক ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকবে।

মে

মুসলিম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে এ মাসে। এর মধ্যে ১৯ মে (বুধবার) বুদ্ধপূর্ণিমার আগের দিন এবং ২১ মে (শুক্রবার) বুদ্ধপূর্ণিমার পরদিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি কাটাতে পারবেন। এদিকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৭ মে (সোমবার)। এর চতুর্থ দিন ২১ মে (শুক্রবার) মুসলিমরা ঐচ্ছিক ছুটি কাটাতে পারবেন।

জুন

ঐচ্ছিক ছুটির তালিকায় এই মাসের জন্য আলাদা কোনো দিন উল্লেখ নেই প্রজ্ঞাপনে।

জুলাই

এ মাসে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আষাঢ়ী পূর্ণিমা উৎসবের সম্ভাব্য তারিখ ১৮ জুলাই (রোববার)। এর আগের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিলে টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৮ জুলাই (বুধবার) পালিত হবে আখেরি চাহার শোম্বা। এ দিন মুসলিম চাকরিজীবীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

আগস্ট

প্রজ্ঞাপনে এ মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়নি।

সেপ্টেম্বর

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম পালিত হতে পারে। এই উপলক্ষে মুসলিমরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এদিকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধু পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর (বুধবার)। আর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে ৩০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ দিন এই ধর্মের চাকরিজীবীরা ঐচ্ছিক ছুটি কাটাতে পারবেন। পরের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় এ সময় টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকবে।

অক্টোবর

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে ১০ অক্টোবর (রোববার)। এর আগের দিন ৯ অক্টোবর শনিবার নবমীতে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। তার আগের দুই দিন ৭ ও ৮ অক্টোবর সপ্তমী ও অষ্টমী উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন এ ধর্মের চাকরিজীবীরা। সে হিসাবে ২০২৭ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা চার দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকবে। এদিকে ১৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। পরের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় টানা তিন দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকবে। একই দিন ১৪ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ। ফলে এই ধর্মের চাকরিজীবীরাও এ সময় টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন। এদিকে ২৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এই উপলক্ষে এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি কাটানোর সুযোগ রয়েছে। পরের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় এ সময়ও টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন এ ধর্মের চাকরিজীবীরা।

নভেম্বর

এ মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়নি।

ডিসেম্বর

২৫ ডিসেম্বর (শনিবার) বড়দিন উদ্‌যাপন করবেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। তাদের জন্য এর আগের ও পরের দিন ঐচ্ছিক ছুটি কাটানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২৬ ডিসেম্বর (রোববার) বড়দিনের পরদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিলে এ সময় এ ধর্মের চাকরিজীবীরা টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন। কারণ, তার আগের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ ডিসেম্বর (রোববার) পবিত্র শবে মিরাজ পালন করা হতে পারে। এর আগের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় এ সময় টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন মুসলিম চাকরিজীবীরা।