logo

পুলিশের প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও উৎসাহিত করতে সরকার তাদের প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশ কতটা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে, সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন। এতে পুলিশ সদস্যরা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবেন এবং ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকার পুলিশ বাহিনীকে আরও বুস্টআপ করতে চায়, যাতে তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন নীতিতে সরকার বিশ্বাস করে এবং সেই নীতিই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুলিশ কতটা জনবান্ধব হয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে, তার স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা ও চার্জশিট দাখিল; দৌলতদিয়া ঘাটে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরী হত্যা মামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে অবদান রাখা পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

মোট ১৫ পুলিশ সদস্যকে আর্থিক পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন সদস্যকে বিশেষ ব্যাজও দেওয়া হয়েছে।

টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং তাদের প্রতিবেদন মূলত সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। তাদের নিজস্ব তদন্ত নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধচিত্র জানতে হলে পুলিশ বিভাগ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। জেলা পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যই বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে। কোনো ঘটনা সরাসরি তদন্ত বা যাচাই ছাড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশে অপরাধের সংখ্যা কমেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমর্যাদা জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকভাবে উৎসাহিত করা জরুরি।

একটি মামলার তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তারা ছয় হাজার টাকা পান, এটি যথেষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এ অর্থ যথেষ্ট নয়। জাতীয় সামর্থ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হয়, তবে ভবিষ্যতে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।