রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আন্দোলনে অংশ নেওয়া এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অতীত আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরোপিত দণ্ডাদেশ মওকুফ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য মার্জনা প্রার্থনা করে আপিল জানালে, রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের এই আদেশ দেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির পর এর বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন এনবিআরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলন চলাকালে জুন মাসে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হলেও তারা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন এবং কর্মবিরতি পালন করেন। এটি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০এ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়।
পরে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এনবিআরের বিভিন্ন পর্যায়ের ওই ২০ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত, বেতন গ্রেড অবনমনসহ নানা মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুর করেন এবং দণ্ড বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়।
শাস্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—চলতি দায়িত্বে থাকা কমিশনার জাকির হোসেন; অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান ও সাধন কুমার কুণ্ডু; যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান ও সানোয়ারুল কবির; উপ-কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও শাহাদাৎ জামিল এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।
২০২৫ সালের মে থেকে জুন মাসজুড়ে আন্দোলনকারীদের টানা কর্মবিরতির ফলে দেশের রাজস্ব প্রশাসন ও শুল্ক-কর কার্যালয়গুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, যা এনবিআরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত হলেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যা রাষ্ট্রপতির আদেশে অবশেষে প্রত্যাহার করা হলো।



