logo
Advertisement

ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে সস্ত্রীক রাষ্ট্রপতি। ছবি: চ্যানেল ২৪

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ও সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি; কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখনোই এই শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম।

বুধবার (৯ সেপ্টম্বর) রাষ্ট্রপতি বেলা ১১টায় জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি এবং স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রপতি জুলাই জাদুঘরে দর্শনার্থী টিকিট সংগ্রহ করে প্রবেশ করে লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসির (দীর্ঘ গণতান্ত্রিক যাত্রা) ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে শহিদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর ঘুরে দেখেন। রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী, জোরপূর্বক গুমের সেকশনগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় শহিদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের অংশগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। সবশেষ জুলাই জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখে রাষ্ট্রপতি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস এবং মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।